Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের এক বছর

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর মধ্যেও অন্যতম যারা দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ১১:৩৭ এএম

সব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের এক বছর হল আজ। গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়। বিশাল জনসংখ্যা, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং সংক্রামক এই ভাইরাস একসঙ্গে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

এক বছর পরের চিত্রটি অবশ্য ভিন্ন। বাংলাদেশ সব ধরনের পূর্বাভাস এবং আশঙ্কাকে বদলে দিয়ে এখন পর্যন্ত মহামারির সাথে লড়াই করে টিকে আছে। সাড়ে ৫ লাখের বেশি আক্রান্ত এবং প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশ এখনও মহামারির ভয়াবহ অবস্থা থেকে অনেক দূরেই আছে।

পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট "ওয়ার্ল্ডোমিটার"র মতে, বাংলাদেশে বিশ্বের ৩৪তম সর্বোচ্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত দেশ। অধিক জনসংখ্যার দেশ হিসেবে কেবলমাত্র নাইজেরিয়া এবং চীনেই বাংলাদেশের তুলনায় কম রোগী শনাক্ত হয়েছে।

২১ কোটি জনসংখ্যার দেশ নাইজেরিয়ায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ এবং ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে এখন পর্যন্ত ৮৯ হাজার ৯৭৫ করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কোনো দেশে কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহতা পরিমাপের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সূচক মৃত্যুহার গণনা করা। সে হিসেবে বাংলাদেশ প্রতি ১০ লাখে ৫১টি মৃত্যু নিয়ে ৮১তম অবস্থানে রয়েছে, যা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় যথেষ্ট ভালো অবস্থান। যেখানে, জাপান প্রতি ১০ লাখে ৬৫ মৃত্যু নিয়ে ৯১তম, নরওয়ে প্রতি দশ লাখে ১১৬  মৃত্যু নিয়ে ১০৬ তম এবং নেদারল্যান্ডস প্রতি ১০ লাখে ৯২১ মৃত্যু নিয়ে ১৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে প্রতি ১০ লাখে প্রায় ৩৩৪ জন।

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর মধ্যেও অন্যতম যারা দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫২ জন টিকা গ্রহণ করেছেন এবং ৫ লাখ ১৭ হাজার ৮০৪ জন ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

 কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিজিএইচএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অ্যাডমিন) ডা. নাসিমা সুলতানা বলেছেন, “মহামারী চলাকালীন ঈদ ও ধর্মীয় নেতার জানাজাসহ বেশ কয়েকটি উৎসব ও অনুষ্ঠান  অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বড় বড় নেতারা সমাবেশ করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিয়েছিল।"

“তবে আমরা আমাদের ভুল থেকেই দ্রুত শিখেছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। যদিও এখনও অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন তবে এই মুহুর্তে স্বল্প আক্রান্তের নিম্নমুখী হার প্রমাণ করে আমরা নিয়ন্ত্রণে আছি," তিনি আরও বলেন।

তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন শনাক্তের হার নিম্নমুখী রাখার জন্য জনগণকে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করতেই হবে না হলে দ্বিতীয় ধাপে আক্রান্ত শুরু হবে।

“কিছু লোকের বেপরোয়া আচরণের কারণেই হার আবার কিছুটা বেড়েছে। সবাই যদি নিয়ম অমান্য করতে থাকে তবে ভাইরাসটি আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে,” বলেও জানান এডিজি।

এ বিষয়ে ডিজিএইচএসের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম বলেন, প্রথম থেকেই প্রত্যেকে সঠিকভাবে "ফেসমাস্ক" পরিধান করলে পারলে বাংলাদেশ আরও ভালো অবস্থানে থাকতে পারতো।

About

Popular Links