Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত বরিশাল-কুষ্টিয়ার মৃৎশিল্পীরা


বরিশাল জেলায় আরো ৫৯৮টি মন্ডপে আর কুষ্টিয়া জেলায় মোট ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০১ পিএম

আসছে ১৫ অক্টোবর শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ইতোমধ্যে দেবীদুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। এবার দেবীদুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে এবং যাবেন দৌলায় (পালকি) চড়ে। কুষ্টিয়া জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবারে কুষ্টিয়া জেলায় ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বরিশালেও চলছে প্রস্তুতি। মন্দির ও মণ্ডপের সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও মৃৎশিল্পীরাসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা। 

পূজা জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কর জানান, বরিশাল মহানগরে এবারে সার্বজনীন ৩৮টি পূজা মন্ডপ রয়েছে এবং ব্যক্তিগত রয়েছে ৫টি পূজা মন্ডপ। গতবারের পূজা মন্ডপের সংখ্যার থেকে এবারে ৩টি মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। 

এছাড়া বরিশাল জেলায় আরো ৫৯৮টি মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, " মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন পূজা-মন্ডপের শান্তি-শৃঙখলা,ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন এবং পরিবেশ রক্ষায় পূজা-কমিটির সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবকরা সহযোগিতা করবেন"।

কারিগর ও মৃৎশিল্পীরাসহ আয়োজক কমিটির মতে গতবারের থেকে নতুন আঙ্গিকে এবারে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তারা। আবার অনেকেই ভারতীয় আদলেও প্রতিমা তৈরি করছেন।কেউ বা  চেষ্টা করছে মা দুর্গাকে বাঙালি সাজে সাজিয়ে তোলার। 

তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় এবার প্রতিমা তৈরিতে গতবছরের থেকে খরচ বাড়বে বলে জানিয়েছেন শ্রী শ্রী শংকর মঠ মন্দিরে দুর্গা প্রতিমার কারিগর বাকেরগঞ্জের কলসকাঠি এলাকার সুমন পাল। 

নগরের সদর রোডস্থ জগন্নাথ দেবের মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ গোপাল সাহা বলেন, "এবারে আমাদের দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ফরিদপুর থেকে সুজন পাল নামে কারিগরকে আনা হয়েছে। আশা করি আমাদের দুর্গা মায়ের প্রতিমা ভক্তদের আকর্ষণ বাড়াবে। এছাড়াও দুর্গা প্রতিমা বাদেও বেশ কয়েকটি আলাদা আলাদা প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন অসুর ও দেব দেবতাদের নিয়ে। সব মিলিয়ে প্রতিমা তৈরিতেই আমাদের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে এবং সেই অনুযায়ী কারিগর কাজ করছেন"। 

প্রতিমা তৈরির কজের শেষের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে যাবে আলোকসজ্জার কাজ। বিগত বছরগুলোর মতো পূজা মন্ডপ ছাড়াও মন্ডপ সংলগ্ন সড়কে আলোকসজ্জা করা হবে। 

বরিশাল মেট্রপলিটান পুলিশের কমিশনার মোশাররফ হোসেন জানান, পুজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্নে করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পুজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন। 

কুষ্টিয়া জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, অতীতের চেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়াও দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। এবছর কুষ্টিয়া জেলায় ২৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

কুষ্টিয়া জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্র নাথ সাহা বলেন,  "গত বারের চেয়ে এবার মন্দির সংখ্যা বেশি। তাই উৎযাপনটাও বেশি হবে বলে আশা করছি। এখন প্রতিমা তৈরী এবং প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের সাথেও বৈঠক হয়েছে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন থেকে আমরা সার্বিক সহযোগীতা পাচ্ছি"। 

চাহিদামত প্রতিমাকে গড়ে তুলতে চেষ্টার কোনো কমতি নেই কোন। প্রতিমাশিল্পী সুকান্ত মালাকার জানান, প্রতিমা তৈরিতে মুলত মাটি, বাঁশ-খড়, দড়ি, লোহা, ধানের কুঁড়া, পাট, কাঠ, রঙ, বিভিন্ন রঙের সিট ও শাড়ি-কাপড়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিমা গড়া শেষ হলে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় অবয়ব। প্রতিমা তৈরি করা অনেক কষ্টের। 

তিনি আরও জানান, বছরের অন্যান্য সময় তেমন কাজ না থাকলেও এই সময় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে সময়ের সাথে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ি প্রতিমা তৈরির মজুরি বাড়েনি। 

প্রতিমাশিল্পী নিরঞ্জন জানান, প্রতিমা তৈরিতে প্রচুর কাঁচাপণ্যের প্রয়োজন হয়। তবে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় এবার প্রতিমা তৈরিতে খরচ কিছুটা বেড়েছে। প্রতিমা তৈরি শেষ হলে এরপর শুরু হবে যাবে সাজসজ্জার কাজ।


About

Popular Links