Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন কি নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ?

বুধবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশে ১,০১৮ টি নতুন আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে এবং গত দুই মাসে এটি দৈনিক সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা, সংক্রমণের হার ৫.৯৮%

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ১২:৪০ পিএম

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংক্রমণের হার ২% এর কাছাকাছি ছিল—গত বছরের ৫ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে কিছুটা আশা জাগিয়ে তুলেছিল।

২১ ফেব্রুয়ারি দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে এই হার কমে দাঁড়ায় ২%। তবে, কিছুদিন বাদেই প্রতিদিনের পরীক্ষা-শনাক্তের হার ক্রমশ বাড়তে থাকায় গল্পটি আপাতভাবে সেখানেই শেষ হয়। 

গতকাল বুধবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশে ১,০১৮ টি নতুন আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে। এবং গত দুই মাসে এটি দৈনিক সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা, সংক্রমণের হার দাঁড়ায় ৫.৯৮%।

মহামারিটি নিয়ে প্রকৃত শঙ্কা ছিল শীতে। তবে বর্তমানে যখন সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি পুনরায় চালু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, সেসময়ও এ শঙ্কাটি বিদ্যমান রয়েছে। 

পরিস্থিতি সম্পর্কে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে না পৌঁছালেও, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনের নতুন আক্রান্তের সংখ্যার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার প্রতি অনীহাই দায়ী।

এজন্য কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ন্যূনতম সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্যানিটাইজ করা ও ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং মাস্ক পরার উপর জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (১০ মার্চ) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবিএম খুরশিদ আলম। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে জনগণের অবহেলাকে দায়ী করেছেন।

ডিজি অবশ্য স্বীকার করেছেন যে এই বিষয় নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

এর আগে, মঙ্গলবার কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যার আকস্মিক বৃদ্ধিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, দেশে সংক্রমণ বাড়ছে কারণ লোকেরা কক্সবাজারের মতো বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ করছিল, যার ফলে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি তবে এটি খুব স্বাভাবিক যে আরও বেশি লোক সংক্রমিত হবে। এবং আরও অনেক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।” 

"ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণের পর মানুষ করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ সেটি মনে করা উচিত নয়," তিনি বলেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ৭ ফেব্রুয়ারি একটি গণ টিকাদান কর্মসুচি শুরু করে বাংলাদেশ।

ভাইরাসবিশেষজ্ঞ, নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসমাবেশ এবং পর্যটন স্পটগুলিতে উপচে পড়া ভিড়কে সংক্রমণের হার বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, "এটি ঘটছে কেবল একটি কারণেই। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় ব্যাপক অনীহাই এর কারণ।" 

তিনি জানান, ভাইরাসটি অন্য অনেক দেশের প্রকৃতির তুলনায় বাংলাদেশে ভিন্ন আচরণ করছিল।

"শীত-প্রধান দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে ভাইরাসটি দুর্বল হয়ে উঠলেও, সারস-কোভ-২ বাংলাদেশের মতো গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশে আরও শক্তিশালী বলে মনে হয়," তিনি বলেছিলেন। তবুও, ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের হারের পেছনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে তিনি সঠিক এবং নিবিড় গবেষণার প্রয়োজনের উপর জোর দেন।

অন্তত ছয় বাংলাদেশি ভ্রমণকারীর নমুনায় যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন ধরনের ভাইরাস পাওয়া গেছিল বলে ধারণা করা হয়, তবে বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের। এ প্রসঙ্গে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান খুরশিদ আলম বলেন, "নতুন কোন ধরন কারণে সংক্রমণ বাড়ছে বলে প্রমাণ করার মতো আমাদের কাছে কোন প্রমাণ বা গবেষণা নেই।"

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, সেই ছয় ভ্রমণকারী আইসলেশনে ছিলেন এবং তারা ভাইরাসটি ছড়াননি।

বাংলাদেশসহ ৮০ টি দেশে এখন পর্যন্ত এই ভেরিয়েন্টটি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অনেক দেশই এই ভেরিয়েন্ট দ্বারা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য ব্যতীত অন্য যেসব দেশে এর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে নতুন ভেরিয়েন্টটি এতটা শক্তিশালী ছিল না।

সংক্রমিত ছয়জন - যুক্তরাজ্যে থেকে ফিরে আসা সকল ব্যক্তি যারা নতুন ভেরিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত তার বর্তমানে ঢাকা ও সিলেটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, “ভেরিয়েন্টটি বাংলাদেশে আরও প্রবেশ করেছে কিনা তা আমরা যাচাই করেছিলাম। এই প্রক্রিয়ায় আমরা কন্টাক্ট ট্রেসিং সম্পন্ন করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”  ভেরিয়েন্টটি দেশে বিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই যুক্তরাজ্যের সকল প্রত্যাবাসীদের পরীক্ষা করা সরকার বাধ্যতামূলক করে।

সংক্রমণ হার উত্থানের পিছনে এই ভেরিয়েন্টটি নেই বলে দাবি করে আইইডিসিআর বিজ্ঞানী বলেন, এই পরিস্থিতি দেশব্যাপী টিকা অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

তিনি জানান, "কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনটি নতুন ভেরিয়েন্ট মোকাবেলায়ও কার্যকর।" 

এদিকে, ভাইরাল রোগ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে মন্ত্রিপরিষদ মঙ্গলবার আরও খারাপ পরিস্থিতির আশঙ্কায় আগামী তিন মাসের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

মন্ত্রিপরিষদের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, গত বছর গ্রীষ্মকালে দেশটি কোভিড-১৯ সংকটে শীর্ষে পৌঁছেছিল এবং এই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

About

Popular Links