Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৭

রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে গেছে ৯ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি ঘর

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ১১:০৪ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ হাজার রোহিঙ্গা বসতি ও শতাধিক স্থানীয় বসতি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৪ এপিবিএনর অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন নিহতের খবর পেয়েছি। ”

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমদ নিজাম উদ্দিন জানান, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৯ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের বসতি পুড়ে গেছে। একইভাবে শতাধিক বাংলাদেশি পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবিও বিরামহীন কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।”

এর আগে সোমবার (২২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৮ ও ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে গেছে ৯ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি ঘর। এছাড়াও পুড়ে গেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক।

 স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন জানিয়েছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের ঘটনায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বালুখালী কাসেম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের অনেকের স্বজন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় বাংলাদেশিদের অন্তত দেড় শতাধিক পরিবারের বসতি পুড়ে গেছে।”

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, “দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলা মুশকিল। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক। অন্তত দেড়-দুই কিলোমিটার এলাকা আগুনের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়ে গেছে।”

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম রাতে জানিয়েছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ও সেনাবাহিনীসহ সাতটি ইউনিট কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্নয় করা কঠিন।”

উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর এপিবিএন’র অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. শিহাব কায়ছার জানিয়েছেন, “আগুনে বালুখালীতে অবস্থানরত ৪ নম্বর এপিবিএনের ব্যারাক আংশিক পুড়ে গেছে। তবে অস্ত্র ও মুল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগুনে রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর ছাড়াও বেশকিছু এনজিও অফিস, স্কুল-মাদ্রাসা পুড়ে গেছে।”  

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি আব্দুল হামিদ জানান, আগুনের তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরসহ অন্তত এক হাজারেও বেশি ঝুঁপড়ি ঘর পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বালুখালী বলিবাজার। এতে ৫০ কোটি টাকার মুল্যের মালামাল পুড়ে গেছে। এঘটনায় তিন শিশুসহ পাঁচজন মারা গেছে’।

মিন আরা বেগম নামের এক রোহিঙ্গা নারী জানিয়েছেন, ক্যাম্পটির ৮ নম্বর ব্লক থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। একটি ছনের ছাউনির ঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। আগুন দেখে আবদুস শুকুর তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে দৌঁড়ে কোনোরকমে আশ্রয় নেয় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত নিয়ে এখনো তেমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চাইলে তারাও নানা তথ্য দিয়ে আসছে। এমনকি রোহিঙ্গারাই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে আসছে। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা জানান, আগুনে কী পরিমাণ রোহিঙ্গাদের বসতির ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি।

About

Popular Links