Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অবরুদ্ধ কাতারে বেড়েছে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা

অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশি কাঁচামাল বিশেষ করে পটল, কাকরোল, কলা, চিচিঙ্গা, লতি, লম্বা বেগুন, লেবু, আলু, কাঁচা মরিচ ইত্যাদির চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া রেডিমেড গার্মেন্টস ও শুকনো খাবারের চাহিদা তো আগে থেকেই আছে।

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৮, ০২:০০ পিএম

সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধের কারণে এক বছর থেকে প্রতিবেশী কয়েকটি রাষ্ট্রের অবরোধ চলছে কাতারের ওপর। কিন্তু তারপরও অন্যান্য কিছু রাষ্ট্রের সহায়তায় টিকে আছে কাতারের অর্থনীতি ও বাজার। এই সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে কাতারের বাজারে।

বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে দেখা যায়- অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশি কাঁচামাল বিশেষ করে পটল, কাকরোল, কলা, চিচিঙ্গা, লতি, লম্বা বেগুন, লেবু, আলু, কাঁচা মরিচ ইত্যাদির চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া রেডিমেড গার্মেন্টস ও শুকনো খাবারের চাহিদা তো আগে থেকেই আছে।

অবরোধের ফলে সৃষ্টি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাতারের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেটি নিয়ে আলাপ আলোচনা ও সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করতে কাতারের দোহা সফর করেছিলেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোহা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে কাতারের উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে তারা বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রফতানির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জানা যায়, গত বছর ৫ জুনের এই দিনে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও বাহরাইন কাতারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সীমান্ত অবরোধের ঘোষণা দেয়। এতে করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত,বাহরাইন ও মিশর থেকে যেসব ওষুধ, কনস্ট্রাকশন সামগ্রী, সবজি, দুগ্ধজাত ও নিত্যপণ্য দ্রব্য কাতারে আসতো সেগুলোর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বিকল্প দেশ হিসেবে ইরান, মরক্কো ও তুরস্ক থেকে নিত্যপণ্য আমদানি শুরু করে কাতার। এর সঙ্গে সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমাতে কাতারেই বেশ কিছু পণ্যের উৎপাদনও শুরু করা হয়।

জানা যায়- সৌদি আরব, বাহরাইন, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই দুধজাত সব খাবার আসতো কাতারে। অবরোধের ফলে দেশটিতে যাতে দুধের সংকট না হয়, সেজন্য বিমানে করে অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘হোলস্টাইন’ জাতের ৪ হাজার দুধেল গাভী নিয়ে এসে দুগ্ধ উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান মৌতাজ আল খায়াত নামক এক ব্যবসায়ী।

কাতারে বেড়েছে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদাএ প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা মুদ্রানীতি বিশেষজ্ঞ ড খালিদ রাশেদ আল খাতের জানান,কাতারকে অস্থিতিশীল করার জন্য অবরোধ আরোপকারী দেশের ষড়যন্ত্র ছিল। কিন্তু কাতার এখন সেই ধকল সামলে উঠেছে।

কাতারে বেড়েছে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা  বাংলা ট্রিবিউন

তিনি আরও বলেন, ‘যদি মুদ্রার মূল্যমান কমে যায়, মুদ্রাস্ফীতি ঘটে, তাহলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা। তারা সরকারকে চাপে ফেলতেই এমনটা করেছে। এখন পর্যন্ত কাতারে মুদ্রার মানের তারতম্য ঘটেনি। মুদ্রার মান অবশ্য অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে কাতারের রিয়ালের মান কমে যায়নি। এমনকি অবরোধ আরোপকারী দেশগুলো যদি কাতার থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়েও নেয়, তারপরেও কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ সেই বিনিয়োগ একেবারেই সামান্য।’

এই অবরোধের একবছর পূর্তিতে কাতার বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৬ মে শনিবার থেকে কাতারের কোনও দোকানে অবরোধকারী দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্য ব্যবহরা করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত সব ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দিয়েছে কাতারের অর্থনীতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্যাডে স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক দল বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালাবে। এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

About

Popular Links