Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হেফাজতের হরতালের প্রভাব ছিল না ঢাকায়

সকালে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ০৬:৫৩ পিএম

হেফাজতে ইসলাম রবিবার (২৮ মার্চ) দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করলেও ঢাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তা প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।

রাজধানীর হাতিরঝিল, রামপুরা, খিলগাঁও, পল্টন, শাহবাগ, নীলক্ষেত, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, শ্যামলী, কল্যাণপুর এবং গাবতলীসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে লোকজনের চলাচল ও পরিবহনের পরিমাণ স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে সকালে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও বিকাল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। 

রামপুরা মোড়ের ট্র্যাফিক পুলিশ সার্জেন্ট সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা প্রতিটি প্রবেশ পথেই চেকপোস্ট তৈরি করেছি এবং যানবাহন ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলগুলো চেক করছি।"

দুপুরের পর থেকে মোটর গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি এবং ভ্যানগাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানান সাবিনা।

এদিকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি হেফাজতের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে বাস চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে। অনেক দূরপাল্লার বাসও রাজধানীর বাইরে ও ভিতরে যাওয়া-আসা করেছে।

অপরদিকে সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশার মানুষ ধর্মঘটকে অস্বীকার করে দৈনন্দিন কার্য সম্পাদনের জন্য বাসা থেকে বের হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, অফিস এবং রাস্তার পাশের দোকানগুলোও উন্মুক্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

হরতালের পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও।  বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, এবং র‍্যাব সদস্যদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে সক্রিয় রয়েছেন বলেও জানান তারা।

এদিকে ধর্মঘটের সময় যে কোনও নাশকতা বা সহিংসতার ঘটনা রোধ করার দাবিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও রাজপথে দেখা গেছে।

"আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যে কোনও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে সহায়তা করার জন্য কাজ করছেন" বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। পল্টনে হরতালবিরোধী এক সমাবেশ শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্যদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের শাহবাগে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

এছাড়াও সকাল থেকে মালিবাগ, রেল ক্রসিং, এবং রামপুরা এলাকায় মোটরসাইকেলে টহল দিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের।

তবে হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কয়েকটি এলাকার রাস্তায় দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত ঢাকায় কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) ও জামায়াতে ইসলামীসহ বেশিরভাগ ইসলামী গোষ্ঠী হেফাজতের ধর্মঘটের প্রতি নৈতিক সমর্থন প্রকাশ করেছে। বিএনপি এই ধর্মঘটকে সমর্থন করলেও রাস্তায় কোনও তৎপরতা দেখায়নি।

উল্লেখ্য, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে শুক্রবার (২৬ মার্চ) পুলিশের সাথে হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন নিহত হলে পরদিন সোমবার (২৯ মার্চ) সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতালের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম।

About

Popular Links