Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শেখ হাসিনার ৭২ তম জন্মদিন আজ

আজ নিজের ৭১ তম জন্মদিনেও তার বিশ্রামের ফুরসৎ নেই। তিনি আজও বিভিন্ন কার্যক্রম সামলাতে সারাদিন ব্যস্ত থাকবেন। তিনি সেইসব বিরল সরকারপ্রধানদের একজন যারা ছুটি নেন কদাচিৎ। শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৭ এএম

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।

দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তাঁরা । বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। শুরু হয় তাঁর শহরজীবন। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন।

শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচন্ড দমন-নির্যাতন। 

আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তাঁর জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশংকা ও দুঃসহ দুঃখ-যন্ত্রনা। এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড.ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তাঁর প্রথম সন্তান জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়। 

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর মানিক মিয়া এভিনিউতে একটি র‍্যালিতে |  ছবি: সৌজন্যে

এরপর ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। 

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ২৫ বছরের দীর্ঘ বিদ্রোহের অবসান ঘটান। 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় দফায় বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। এরপর আসে সেই ভয়াল ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশনেতা-কর্মী আহত হন।

বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের পর ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব থেকে সরাতে তৎপর হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরতে বাঁধা দিতে শুরু করে। তারপরও সমর্থকদের বিপুল বিক্ষোভের মুখে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ঐ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণা জাগিয়ে তোলারও চেষ্টা চালায়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে।

কিন্তু, মিথ্যা মামলায় তার মত রাষ্ট্র নেতাকে আটকে রাখা যায় না। তাইতো, তারই নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে এবং এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে।

অতি সম্প্রতি তিনি মায়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকেই। পুনরুজ্জীবিত করেছেন সারা বিশ্বের মৃতপ্রায় মানবতাকে।

শেখ হাসিনা ঐ সময় বলিষ্ঠকন্ঠে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি ১৬ কোটি যদি খাওয়াতে পারি তাহলে ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকেও খাওয়াতে পারব’। তিনি এমন একটা সময় এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন যখন সারা বিশ্বেই শরণার্থী ইস্যুতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল উন্নত দেশগুলো, যখন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের খাবার ও সাহায্যের তীব্র অভাব প্রকট হয়ে উঠেছিল।    

এর পরপরই জনগণ তার উদারতা এবং একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শরনার্থী সংকটে তার বলিষ্ঠ এবং সাহসী পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করে।  

জাতিসংঘের গত অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেছেন। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে।

আজ তার ৭১ তম জন্মদিনেও তার বিশ্রামের ফুরসৎ নেই। তিনি আজও বিভিন্ন কার্যক্রম সামলাতে সারাদিন ব্যস্ত থাকবেন। তিনি সেইসব বিরল সরকারপ্রধানদের একজন যারা ছুটি নেন কদাচিৎ। শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

তবুও অন্যান্য নেতাদের মতই তারও সমালোচক আছে। তবে, একটা ব্যাপার স্বীকার না করলে প্রতারণা করা হবে যে, তার যে দৃঢ় মানসিকতা যার মাধ্যমে তিনি তার পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ড, নির্বাসনের জীবন, স্বৈরশাসকের দুঃশাসন, অসংখ্য হত্যাচেষ্টা, গৃহবন্দী জীবন মোকাবিলা করেছেন সেটা নাহলে বাংলাদেশ আরও অনেক খারাপ অবস্থানে থাকত সারা বিশ্বের উন্নয়নের চিত্রে।          

সাধারণ মানুষের উন্নয়নে শেখ হাসিনার এই অসাধারণ কার্যদক্ষতা শুধু তার বাবার প্রতিচ্ছবিই নয়, তার এই কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে, যে ধারা বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে নির্ধারিত করবে। তিনি কখনই দেশ কিংবা দেশের বাইরের কোন হুমকিতেও কখনও দমে যাননি। সব সময়েই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে তিনি প্রস্তুত।    

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এবারের জন্মদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অসহায়গরীব ও দুঃখী মানুষের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নেয়া হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। এদিন বাদ জুম্মা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার (মেরুল বাড্ডা) ও সকাল ৯ টায় খ্রিস্টান এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) ওয়াই.এম.সি. এ চ্যাপেল২৯ সেনপাড়াপর্বতামিরপুর-১০এ এবং সকাল ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। একইদিন সকাল ১০টায় ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আনন্দ র‍্যালী ও শোভাযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে। জেলামহানগরউপজেলাপৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

About

Popular Links