Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রামু সহিংসতার ৬ বছর: বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়

'সব তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, এদের বেশিরভাগ আসামি কিন্তু এখন প্রকাশ্যে ঘুরছে। এদের কেউ শাস্তির আওতায় আসেনি। স্বভাবতই তাদের দেখে ক্ষতিগ্রস্তরা হতাশ হয়ে পড়েছে।’

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৩৪ পিএম

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার আজ ছয় বছর পূর্ণ হলো। সহিংস হামলার পর রামুতে এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরে আসলেও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। অপরাধীদের বেশিরভাগ আইনের আওতায় না আসায় শঙ্কা কাটছেনা স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা ও সাধারণ মানুষের।

২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামুতে উত্তম বড়ুয়া নামের এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে রাতের অন্ধকারে রামুর ১২ বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘর এবং উখিয়া এবং টেকনাফের ৭টি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করা হয়। এসময়  দুস্কৃতিকারিরা হামলা ও লুটপাট চালায় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসতঘরে। ঘটনার পর পরই সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ বিহার ও ঘরবাড়ি পুণনির্মাণ করে দেয় সরকার। 

উক্ত সহিংস ঘটনায় রামু, উখিয়া ও টেকনাফে এজাহারভুক্ত ৩৭৫ জনসহ ১৫ হাজার ১৮২ জনকে অভিযুক্ত করে ১৯টি মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে এসব মামলায় ৯৪৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এর মধ্যে অভিযোগপত্রে রামুর ৮টি মামলায় অভিযুক্ত করা হয় ৪৫৮ জনকে। অপর ১০টি মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয় ৪৮৭জনকে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজন বাদী হয়ে যে একমাত্র মামলাটি দায়ের করেন তা খারিজ হয়ে যায়। তবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, সকল মামলায় পুলিশ বাদী হওয়ায় এসব মামলার বিষয়ে  তারা কিছুই জানেন না। 

রামু উপজেলা বৌদ্ধ যুব পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক বিপুল বড়ুয়া জানান, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত বিহারগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এখন রামুর সব ধর্মের মানুষের মাঝে সম্প্রতি ফিরে এসেছে। কিন্তু হামলার পর পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলোতে অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি আশংকা করছেন হয়রানির শিকার হওয়া ব্যক্তিরা হয়তো ভবিষ্যতে ক্ষুব্ধ হয়ে যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে করতে পারে। এজন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায় চায় নিরাপরাধ কোন মানুষই যেন মামলায় হয়রানি না হয়। 

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, ‘দীর্ঘ ৬টি বছরের ব্যবধানে মামলার সাক্ষীদের স্বাক্ষ্য দেওয়ার যে আগ্রহ ছিল, দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কিন্তু তা ভাটা পড়েছে। অনেকে অনেক সমীকরণ আঁকছে। নিরাপত্তার কথা ভাবছে, লাভ-ক্ষতির কথা ভাবছে। এতে করে তারা অনেকটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে ঘটনার পর থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রাণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন হয়েছে, জুডিসিয়াল তদন্ত হয়েছে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে।সব তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, এদের বেশিরভাগ আসামি কিন্তু এখন প্রকাশ্যে ঘুরছে। এদের কেউ শাস্তির আওতায় আসেনি। স্বভাবতই তাদের দেখে ক্ষতিগ্রস্তরা হতাশ হয়ে পড়েছে।'

কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘বৌদ্ধ মন্দির ও বসতিতে হামলার ঘটনায় সর্বমোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়। তার মধ্যে বাদীর সম্মতিতে ১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যায়। অন্য ১৮টি মামলার মধ্যে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। বিচারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাকী ৪টি মামলা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সাক্ষী না দেওয়ার কারণে বিচারকার্য বিলম্বিত হচ্ছে।'

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরকে কেন্দ্র করে যে সহিংস ঘটনা গুলো ঘটেছিল এতে ১৯টি মামলা হয়। এতে এজাহারভুক্ত প্রায় ৪শ’জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা দেড় হাজার মানুষ আসামি ছিল। বর্তমানে প্রত্যেকটি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে আদালত যদি মনে করে সাক্ষীদের নোটিশের মাধ্যমে আদালতে নিয়ে আসার, সে ব্যাপারে পুলিশ সহযোগিতা করবে।'

এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর রামু সহিংসতার ৬ বছর উপলক্ষে রামুতে বৌদ্ধ যুব পরিষদ এর উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানা গেছে। কর্মসূচির মধ্যে বিকালে শ্রীকুল গ্রামের লাল চিং-সাদা চিং মৈত্রী বিহার কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে স্মৃতিচারণ, হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। এছাড়া বিভিন্ন বিহারে পালন করা হবে ধর্মীয় কর্মসূচি। 

About

Popular Links