Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জয় : নির্বাচন ও গুম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ সঠিক নয়

তিনি তার লেখায় আরো উল্লেখ করেছেন, ‘সরকার আশা করছে যে বিএনপি এই ভুলগুলো স্বীকার করে গঠনমূলকভাবে লড়াই করবেসহিংসতার মাধ্যমে নয়। সমগ্র বাংলাদেশ বিরোধী দলের কাছ থেকে এতটুকুই আশা করে’।

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে এবং বিরোধী রাজনীতিকদের গুম হওয়া নিয়ে সরকারবিরোধী মহলের অভিযোগ ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্সে গত শনিবার প্রকাশিত এক কলামে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।

সরকারবিরোধী মহলের অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি কলামে লিখেছেন, ‘সরকারবিরোধীরা দাবি করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভেঙে পড়েছে। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনকে বৈধ মনে করে না এবং বলছে আসন্ন নির্বাচনও সেরকম হবে। তারা অভিযোগ করে কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিকের গুম হওয়াটা সরকারের ষড়যন্ত্র। তারা ভুল’।    

কলামে তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনের অপূর্ণতার দায় পুরোটাই বিএনপির বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সত্য হলো বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পর তারা অভিযোগ করে খুব কম রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছেফলে তা লজ্জার। এটা ছিল তাদের নিজেদের স্বার্থে সাজানো অভিযোগ। নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই সংসদ নির্বাচনের জন্য একজন প্রার্থীও দেয়নি বিএনপি’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বিএনপিকে নির্বাচন তদারকিতে সহযোগিতা চাইলেও তা পাননি উল্লখ করে জয় আরো লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন যেগণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এমনকি তিনি বারবার নির্বাচন তদারকিতে বিএনপির সাহায্য চেয়েছেন। কিন্তু, বিএনপি তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে উল্টোপথে হেঁটে প্রকাশ্যে লড়াই শুরু করেছিল। দলটির অনেক নেতা ভোটকেন্দ্রে আগুনবোমা ছুড়ে মারার পথ বেছে নেন। আরও খারাপ হলোবিএনপি এ বছরের নির্বাচনকেও একইভাবে বিবেচনা শুরু করেছে। তারা আবারও হুমকি দিয়েছে নাগরিক বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু করার’। এছাড়াও, বিএনপি ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে ব্যর্থ করে দিয়েছে বলেও তার কলামে অভিযোগ করেছেন তিনি।

কলামে ২০১৪ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস বিক্ষোভ এবং জ্বালাও পোড়াও এর কারণে ভোট দান কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। তিনি বিএনপি-জামায়াতের সেইসব ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, ‘তারা এবং তাদের সহযোগীরা হাজার হাজার বাড়িগাড়িভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে২০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছে এবং সরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়েছে। নির্বাচনের দিন তারা পেট্রোল বোমা মেরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ত্রাসের মুখে রাখে’।   

তার এই বক্তব্যের প্রমাণে তিনি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানকে কলামে উপস্থাপন করেছেন। বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ থাকায় দলটির জনপ্রিয়তা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক নীচে নেমে গেছে বলেও জয় দাবী করেছেন তার লেখায়।   

এরপর তিনি বিএনপির দিকে আরও অভিযোগের আঙুল তুলে লিখেছেন, ‘কিন্তু বিএনপি কখনও এই অদূরদর্শীতার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। যখন বিএনপি সম্পর্কিত উস্কানিদাতারা বিচার এড়াতে পালিয়ে যায় তখন দলটি দাবি করে জোর করে তাদের নেতাদের গুম করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করেছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্টতার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে তারা জানতে পেরেছেসহিংস অপরাধে বিচার এড়াতে তাদের অনেকে নিজেরাই অদৃশ্য  হয়েছেন’। এই বক্তব্যের প্রমাণে তিনি বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের গুম ও ফিরে আসার কথা তার লেখায় তুলে ধরেছেন।

এছাড়াও তার কলামে তিনি বিএনপি এবং বিরোধীপক্ষের অনেক নেতার নামে চলমান দুর্নীতির মামলার কথা তার কলামে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক  রহমানের সম্পৃক্ততার কথাও তার লেখায় তুলে ধরেছেন। 

তিনি তার লেখায় আরো উল্লেখ করেছেন, ‘সরকার আশা করছে যে বিএনপি এই ভুলগুলো স্বীকার করে গঠনমূলকভাবে লড়াই করবেসহিংসতার মাধ্যমে নয়। সমগ্র বাংলাদেশ বিরোধী দলের কাছ থেকে এতটুকুই আশা করে। তবে বিএনপির কয়েকজন মনে করেনতাদের পক্ষে গঠনমূলক কিছু করা সম্ভব নয়। কারণ তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে আছেন এবং তাকে মুক্ত করার জন্য তারা আন্দোলন-সংগ্রাম ও সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করবেন। এমনকি নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করতেও তারা চেষ্টা চালাবেন’। 

তবে, সহিংসতার চেষ্টা চালালে কঠোর পদক্ষেপ নেবার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন তার কলামে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

About

Popular Links