Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিমুলিয়া ঘাটে আজও মানুষের ঢল

ফেরিতে পার না হতে পেরে ট্রলারে করে থেকে অতিরিক্ত ভাড়ার বিনিময়ে পার হচ্ছেন যাত্রীরা, সকাল থেকে মোট ১০ টি ট্রলার আটক করেছে নৌ পুলিশ

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ০১:০৫ পিএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি উপেক্ষা করেই আজও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ার মত। ফেরিতে পার না হতে পেরে ঘাটের আশপাশ ছোট-ছোট নৌকা, ট্রলারে করে থেকে অতিরিক্ত ভাড়ার বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধশত যাত্রীসহ মোট ১০ টি ট্রলার আটক করেছে নৌ পুলিশ।

রবিবার (৮ মে) সকাল থেকে জরুরি পরিষেবায় মোট তিনটি ফেরি শিমুলিয়া ঘাট ছেড়েছে। সকাল ৭টার দিকে ৮টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রথম ফেরিটি ছেড়ে যায়,  এরপর সকাল ৮ টার দিকে ৬-৭ টি অ্যাম্বুলেন্স  নিয়ে আরেকটি এবং সর্বশেষ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শাহ পরাণ নামে আরও একটি ফেরি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট ছাড়ে।

শিমুলিয়া ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাফিক পুলিশ ও মাওয়া নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকালকের তুলনায় চাপ কম থাকলেও সকাল থেকেই যাত্রীরা শিমুলিয়া ঘাটে নদী পারাপারে ভিড় জমাচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা অধিকাংশই পায়ে হেঁটেই ঘাটে পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। সকাল শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভীড় বেড়েই  চলেছে। শত শত যাত্রী পারপারের আশায় ঘাটে অপেক্ষা করছে। জরুরি পরিষেবায় চলাচলরত ফেরিতে যাত্রীরা অনেকে পার হচ্ছে। অন্যদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই শিমুলিয়া ঘাটের আশেপাশের বিভিন্ন চর থেকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। রবিবার সকালে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শ্রীনগর, কবুতর খোলা, শিমুলিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলারে করে অবৈধভাবে পারপারকালে অর্ধশত যাত্রীসহ ১০টি ট্রলার আটক করেছেন।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করে যাত্রী পারাপারের সময় ১০টির মত ট্রলার আটক করা হয়েছে। স্পিডবোট ও ট্রলার যাত্রী পারাপারে এখন সম্পূর্ণ নিষেধ আছে। কিন্তু বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ট্রলারে যাত্রী উঠানোর কারণে শিমুলিয়া ঘাট ও ঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এ সকল ট্রলার আটক করা হয়। গতকালকেও লঞ্চ, শিমুলিয়া ঘাট, কান্দিপাড়া ও মাওয়া মৎস আড়তের কাছ থেকে ছয়টি ট্রলার আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু তারপরও ফাঁকফোকর গলিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

এদিকে ঘাটের র্সবশেষ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সকাল থেকে ঘাটে প্রায় ৩ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে। জরুরি পরিষেবায় অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি নেই বললেই চলে। কারণ জরুরি পরিষেবায় চলাচলরত ফেরিগুলো প্রতিঘণ্টায় ঘণ্টায় এসে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাচ্ছে। আর এ ফেরিগুলোতে করেই যাত্রীরা পার হয়ে যাচ্ছে।

যাত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাত্রীরাও আসছে তবে পরিস্থিতি গতকালকের মত না।

এদিকে ফেরিতে যাত্রী পারাপারের প্রসঙ্গে শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ৪-৫ টি ফেরি জরুরি পরিষেবায় চলাচল করছে। আর ঘাটে অপেক্ষারত যাত্রীরা ফেরিগুলোতে জোরপূর্বক উঠে পার হচ্ছে। এখন রাস্তায় থেকে যদি যাত্রী আটকানো না যায় তাহলে যাত্রীরাতো ঘাটে ভিড় জমাবেই।

উল্লেখ্য, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের অণ্যতম যাতায়াতস্থল মুন্সিগঞ্জে শিমুলিয়া ঘাট। দক্ষিণাঞ্চলের মাদারীপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ীসহ ২১ টি জেলার প্রায় লাখো মানুষের যাতায়াতস্থল এ শিমুলিয়া ঘাট। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার রাতে পণ্যবাহী ফেরি ও দিনের জরুরি পরিষেবা ছাড়া সকলা প্রকার চলাচল বন্ধ ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিসি। 

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের সমাগম ঠেকাতে রবিবার ভোর থেকে শিমুলিয়া ঘাটের আশেপাশে ও পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার কাছে দুই প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়।

About

Popular Links