Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ চীনা নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

অভিযোগ রয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চীনারা হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না। তারা বাইরে ঘোরাফেরা ও কেনাকাটা করছেন

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ০২:১৯ পিএম

খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র অভ্যন্তরে নির্মিতব্য ৩৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে কর্মরত ৮৫ চীনা নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ১৯ জন নেগেটিভ হয়েছেন। কিন্তু অবশিষ্ট ৬৬ জন এখনও পজিটিভই রয়েছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরও চীনারা প্রকাশ্যে চলাচল করছেন, বাজার ঘাটে যাচ্ছেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ঘোরাফেরা করছেন- এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কে থাকা এলাকাবাসী অবিলম্বে এলাকাটিকে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে নির্মিতব্য ৩৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে কর্মরত ৯৭ জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য নমুনা দেয়া হয়। ১৮ মে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় ৯৭ জনের মধ্যে ৪২ জনই করোনাভাইরাস পজিটিভ। 

খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল প্রথম ১০ জন চীনা নাগরিকের করোনাভাইরাস টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের পজিটিভ আসে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসা জন্য ঢাকা পাঠিয়ে দেন। আক্রান্ত অন্য ৫ জনকে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

জানা যায়, খালিশপুরে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র অভ্যন্তরে ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টে প্রায় ১৮৫ জন চায়না নাগরিক কাজ করছেন। ২০১৮ সালে ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্টটির কাজ শুরু হয়। এই প্রজেক্টে বাঙলি শ্রমিক কাজ করেন প্রায় ৫-৬শ জন। এছাড়াও প্রতিদিন ১শ-২শ জন শ্রমিক এই প্রজেক্টে অস্থায়ীভাবে কাজ করার জন্য প্রবেশ করেন এবং রাতে বাড়িতে ফিরে যান। গত এক মাসে মোট ৮৫ জন চীনা নাগরিকের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ১৮ মে ৪২ জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। ওই দিন ৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। ফলে এই প্রজেক্টে কর্মরত সকলের ভাইরাসটির সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল হয়ে উঠছে। 

অভিযোগ রয়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চীনারা হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না। তারা বাইরে ঘোরাফেরা ও কেনাকাটা করছেন। অনেকেই নিয়মিত কাজে অংশ নিচ্ছেন। এতে এই প্রজেক্টে কর্মরত সকলের মাঝে যেমন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, তেমনি শ্রমিকদের মাধ্যমে খালিশপুরসহ আশপাশ এলাকায় সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে কর্মরত কয়েকজন বাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন এখানে তাদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

কর্মরত শ্রমিক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা শুনেছি প্রজেক্টে চায়না নাগরিকদের মাঝে করোনা সংক্রমন বেড়েই চলেছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। কিন্তু আমাদের উপায় নেই, পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। প্রতিদিনই চাইনজিদের সাথে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কার করোনা হয়েছে, আর কার হয়নি এটা বোঝার উপায় নেই।

বারেক হোসেন নামে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আমরা প্রতিদিনই চাইনিজদের ঘোরাফেরা করতে দেখি। এমনকি তারা অনেক কিছু কেনাকাটা করতে আসেন। এতে আমরা ভয়ে থাকি। করোনা সংক্রমণ নিয়ে কেউ যদি বাইরে আসে সেটা আমাদের বোঝার উপায় নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দেখা উচিত।

পাওয়ার প্লান্টের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, গত এক মাসে (১৮ এপ্রিল থেকে ১৮ মে)  প্রজেক্টে কর্মরত ৮৫ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ জনের ইতোমধ্যে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এখনও ৬৬ জন আক্রান্ত রোগী আছে। আক্রান্তরা নিজস্ব হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তারা বিদেশি নাগরিক, তাই এমনিতে তারা মানুষের সাথে তেমন মেলামেশা করেন না। 

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত কেউ কাজে অংশ নেয়নি। তারা ইতোমধ্যে সকলেই করোনা টিকা নিয়েছেন।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খালিশপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত করোনা আক্রান্ত চাইনিজ নাগরিকরা নিজস্ব হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এত সংখ্যক চাইনিজ কেন করোনা আক্রান্ত হলো- বিষয়টি দেখার জন্য আইইডিসিআর’র খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর তদন্তের জন্য সেখানে গিয়েছেন।

তিনি বলেন, চীনারা এ বিষয়ে খুবই সচেতন। ওরা এক এক রুমে একজন করে কোয়ারেন্টিনে আছে। বাইরে বের হয় না। তবে কিছু চীনা এখনও আক্রান্ত হয়নি। ওরা হয়তো বের হতে পারে। আর ওদের চেহারা যেহেতু একরকম। তাই স্থানীয় লোকজন বুঝতে পারছে না।    

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা. হাসনাইন শেখ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার প্রজেক্টে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানকার চাইনিজ কমিউনিটিতে ঢুকতে দেওয়া হয় না। যা কথা বলার তা ফোনেই বলতে হয়েছে। তাদের সকলের করোনার টিকা দেওয়া আছে। তাদের নিজস্ব চিকিৎসকও রয়েছে। তবে আক্রান্ত চাইনিজরা কাজে অংশ নিচ্ছেন কি’না বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। তাদের সকলের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সকলের করোনা নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই বাইরে বের হতে পারবে না।

About

Popular Links