Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতীয় ধরন শনাক্তের পরও লকডাউন মানছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালটির কোভিড ওয়ার্ড ও আইসিইউ-এ চিকিৎসাধীন আছেন ১৯১ জন,  এদের মধ্যে  ৯৪ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ১১:১৬ এএম

কঠোর লকডাউনেও ঘরবন্দি করা যায়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দাদের। জীবিকার তাগিদে লকডাউন উপেক্ষা করেই প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে যাত্রা করেছেন শত শত মানুষ। শ্রমজীবী এসব মানুষের দাবি গ্রামে কোনো কাজ নেই। ঈদের পর থেকে বেকার হয়ে পড়েছেন তারা। তাই উপায় না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন ঘর ছাড়তে। 

শনিবার (২৯ মে) রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও ঢাকার প্রধান বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ছিলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা মানুষের ভিড়। দিনব্যাপী কাউন্টারগুলোতে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে এসকল শ্রমজীবী মানুষকে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে অনেকেই আশেপাশের জেলা শহর ও উপজেলাগুতে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ফলে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। 

গত তিনদিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। শনিবার সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৩৮ জনের। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাত জনের ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন ছিলো। 

এছাড়া শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত জনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও দুইজন নারী। আক্রান্তদের একজনের বয়স ১৩ বছর বলে জানা গিয়েছে। তবে আক্রান্ত সাতজনের কেউই সম্প্রতি ভারত ভ্রমণ করেননি বলে জানা গেছে।  

 তারা জানান, “সকালে পুলিশ ডিউটিতে আসার আগেই প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গোদাগাড়ী এসেছেন তারা। এমনকি রাস্তায় পুলিশের চেক পোস্ট থাকায় বিল পাড় করে এসেছি। ঈদের পর থেকেই কোনো কাজ নেই। ঢাকায় গেলে রাজমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায়। তাই এতো কষ্ট করে যাচ্ছি।”

ভারত থেকে দেশে আগতদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, “শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে মোট ৮২ জন দেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে দু’জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।” 

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতেখায়ের আলম জানান, “গোদাগাড়ী ও তানোর সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশ কঠোরভাবে চেকপোস্টে তল্লাশি করছে।”

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী,  রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন এবং রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়াল ৫৪৭ জনে। এছাড়া বিভাগের আট জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৮৩৮ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩১ হাজার ৩০০ জন এবং  হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৪ জন। 

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ড ও আইসিইউ-এ চিকিৎসাধীন আছেন ১৯১ জন। যাদের মধ্যে  ৯৪ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের।এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরস নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন।

 হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, গত ১৬ মে থেকে ২৯ মে শনিবার দুপুর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে করোনাভাইরাসে  আক্রান্ত হয়ে অথবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৩ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ীর ১০ জন, রাজশাহী জেলার ২৪ জন, পাবনার দুইজন, কুষ্টিয়ার একজন ও নাটোরের একজন মারা গেছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী জানান, “যে আকারে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। তাতে করে রাজশাহীতে ভাইরাসটির ভারতীয় ধরনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষার মাধ্যমেই এখন তথ্যটি নিশ্চিত করা যাবে।”

About

Popular Links