Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা, তারপর করাত দিয়ে কাটেন হাত-পা

পুলিশ জানায়, ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন স্ত্রী আরিফা

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ০৫:৪৮ পিএম

গাজীপুরে "প্রেমিককে" মারধর করার জের ধরে স্বামীকে হত্যা করেন এক নারী। পরে করাত দিয়ে মরদেহের হাত-পা ও মাথা কাটা হয়। এ কাজে তাকে ওই "প্রেমিক" সহায়তা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

গত ২১ এপ্রিল দুপুরে পুলিশ কাশিমপুর থানার সারদারগঞ্জের হাজী মার্কেট পুকুর পাড় এলাকার জালাল উদ্দিনের বাড়ির পাশের ময়লার স্তুপ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় মাথা ও হাত-পা বিহীন একটি দেহ উদ্ধার করে। এর জের ধরে তদন্ত চালালে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। 

রবিবার (৩০ মে) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার জাকির হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

নিহত ব্যক্তির নাম সুমন মোল্লা (৩২)। তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার গোলা বরননী গ্রামের জাফর মোল্লার ছেলে। গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন-সুমনের স্ত্রী দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে আরিফা (২৩) এবং তার "প্রেমিক" ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নরকোনা এলাকার আদিত্য সরকারের ছেলে তন্ময় সরকার (২৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেফতার দু'জন। তন্ময় সরকারও কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২১ এপ্রিল দুপুরে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর সেটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে অজ্ঞাত হিসেবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরদিন ২২ এপ্রিল কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমনের স্ত্রী আরিফা ও তার "প্রেমিক" তন্ময় সরকারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, আরিফা ও তন্ময় সরকারের মধ্যে "পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক" ছিল। সুমন আসামি তন্ময় সরকারকে একাধিকবার মারধর করেছিলেন। মারধরের প্রতিশোধ নিতেই তারা সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।  

পরে ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন স্ত্রী আরিফা। সুমন ঘুমিয়ে পড়লে প্রেমিক তন্ময়কে ফোন করে বাসায় ডেকে আনেন আরিফা। পরে তারা দু’জন মিলে বালিশ চাপা দিয়ে সুমনকে হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতর রেখে দেন। পরদিন করাত দিয়ে সুমনের মরদেহ থেকে মাথা, দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করেন এবং চাপাতি দিয়ে পেট কেটে ফেলেন। পরে হাত-পা বিহীন দেহ কাঁথায় পেঁচিয়ে জামাল উদ্দিনের বাড়ির পাশে উন্মুক্ত সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। দেহের অন্যান্য অংশ (মাথা, দুই হাত ও দুই পা) পলিথিনে মুড়িয়ে চক্রবর্তী (তেতুইবাড়ি) এলাকার মোজা তৈরির কারখানার পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেন। 

About

Popular Links