Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা, সীমান্ত বন্ধ

ঠাকুরগাঁওয়ের সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট ঢেলে সাজানো হলেও এখানে নেই কোন আইসিইউ ব্যবস্থা

আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ০২:১১ পিএম

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিগত কিছুদিন ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী উপজেলা বালিয়াডাঙ্গীতে এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট ঢেলে সাজানো হলেও এখানে নেই কোন আইসিইউ ব্যবস্থা। এই ইউনিটে ভেন্টিলেটর থাকলেও নেই দক্ষ জনবল। ফলে অব্যবস্থাপনার কারণে করোনা ইউনিট পড়ে রয়েছে অযত্ন-অবহেলায়। অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও গত পাঁচ মাসেও তা চালু হয়নি।

এদিকে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে জেলার সীমান্ত সিলড করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। 

জেলায় গত কয়েকদিনের সংক্রমণ পর্যালোচনা অনুযায়ী,  গত শুক্রবার (২৮ মে) কোন রোগী করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। শনিবার (২৯ মে) তিন জন, রবিবার (৩০ মে) সাত জন, সোমবার (৩১ মে) আট জন, মঙ্গলবার (১ জুন) একজন ও বুধবার (২ জুন) এক লাফে ১৭ জন করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে।  

যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এখনো রোগীদের মধ্যে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট পাওয়া যায়নি। তবু শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিজিবির ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাকসুদ বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। টহল আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ ঠেকাতে সীমান্ত সিল করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, সদর হাসপাতালে মাল্টি সিলিন্ডার সিস্টেম আছে। পাঁচ মাস আগে ঘটা করে লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। তবে আজও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে জুন মাসের মধ্যে এটি চালু হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকেই ওষুধ সরবরাহ করা হলেও রোগীদের আলাদা করে রেমডিসিভির ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে।  

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক  ডা. নাদিরুল আজিজ চপল জানান, হাসপাতালে এই মুহূর্তে আইসিইউ থাকাটা অপরিহার্য। সদর হাসপাতালে ভেন্টিলেটর আছে, কিন্তু দক্ষ জনবলের অভাবে চালু করা যায়নি। 

তিনি জানান, জেলায় করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ মহামারী আকারে বিস্তার ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হবে। 

সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সেও আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

তিনি জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ১৭০৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫৭০ জন এবং মারা গেছেন ৩৬ জন।

About

Popular Links