Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গায়ক আসিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

মঙ্গলবার (৫ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম তাকে এফডিসি সংলগ্ন তার স্টুডিও থেকে গ্রেফতার করে।

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৮, ০১:১৮ পিএম

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী এই নির্দেশ দেন। 

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রলয় রায় (উপ-পুলিশ পরিদর্শক, সিআইডি, ঢাকা) পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসিফ আকবরকে আদালতে হাজির করেন। পরে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করেন। আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা তাহেরা ভানু এসব তথ্য জানান।

আসামি পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারুখ আহমেদ। তিনি শুনানিতে বলেন, ‘একজন স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী ও স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান আসিফ। তার জনপ্রিয়তাকে নষ্ট করার জন্য এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আসিফ বিচারককে বলেন, ‘আমি অন্য কারও গান, সুর, রিংটোন কপি করিনি। ২০১৪ সালে গ্রামীণফোনের সঙ্গে আমি চুক্তিবদ্ধ হই। তারপর থেকে তাদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছি। আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা মিথ্যা ভিত্তিহীন।’

আবেদনে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন আসামি আসিফ। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল বক্তব্য প্রকাশ করে ও মিথ্যা কথা বলে ফেসবুক লাইভে এসে লাখ লাখ মানুষকে শুনিয়ে বাদীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দিয়েছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছিল- মামলার ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা এবং মূল ঘটনা উন্মোচন ও মূলহোতাসহ অন্যদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করছে পুলিশ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হয়। বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসিফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। মঙ্গলবার (৫ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম তাকে এফডিসি সংলগ্ন তার স্টুডিও থেকে গ্রেফতার করে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিনের দায়ের করা তেজগাঁও থানার একটি মামলায় আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৪। সোমবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় দায়ের করা এই মামলায় আসিফ ছাড়াও আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তল্লাশির সময় আসিফ আকবরের স্টুডিওতে এক বোতল টাকিলা আর এক কেস হানিকেন বিয়ার পাওয়া যায়। তবে তিনি তার মদপানের লাইসেন্স আছে বলে জানান। তিনি কর্মকর্তাদের এ-সংক্রান্ত লাইসেন্সের একটি কপিও দেখান। সিআইডি কর্মকর্তারা লাইসেন্সটি যাচাইয়ের জন্য একটি কপি নিয়ে গেছেন।

শফিক তুহিন এজাহারে অভিযোগ করেছেন, গত ১ জুন আনুমানিক রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪-এর ‘সার্চলাইট’ নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রা. লি. কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লি., গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লি. ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়ালপেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।

এজাহারে শফিক তুহিন আরও উল্লেখ করেন, পরে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরদিন রাত ৯টা ৫৯ মিনিটে আসিফ আকবর তার প্রায় ৩২ লাখ লাইকারসমৃদ্ধ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। ৫৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড লাইভ ভিডিওর ২২ মিনিট থেকে তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দিতে থাকেন।

ভিডিওতে আসিফ আকবর তাকে (শফিক তুহিন) শায়েস্তা করবেন, এমন কথা বলার পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশে বলেন- তাকে যেখানেই পাবেন সেখানেই প্রতিহত করবেন। এই নির্দেশনা পেয়ে ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শফিক তুহিনকে হত্যার হুমকি দেয়। আসিফের এই বক্তব্য লাখ লাখ মানুষ দেখেছে। এর মাধ্যমে তিনি উসকানি দিয়েছেন ও এতে তার (শফিক তুহিন) মানহানি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে শফিক তুহিন আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংগীতাঙ্গনের সুপরিচিত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার প্রীতম আহমেদসহ অনেকেই জানেন। 

About

Popular Links