Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বর্ষা এলেই আতঙ্ক, শিয়রে মৃত্যু নিয়ে হাজারো মানুষ

আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'বৃষ্টি আসলে আমাদের কোনো নিশ্চয়তা নাই আগামীকাল বেঁচে থাকবো কিনা। রোহিঙ্গাদের এদেশে জায়গা হয়, কিন্তু আমরা জায়গা পাই না'

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ১১:১৬ এএম

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে রাঙামাটির হাজারো মানুষ। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপুর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে দেখা গেছে ধীর গতি। 

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো হচ্ছে-শহরের ভেদভেদির যুব উন্নয়ন এলাকা, শিমুলতলী, ভেদেভেদী, সনাতন পাড়া, লোকনাথ মন্দিরের নিচের এলাকা, রূপনগর, আরশি নগর, টিভি স্টেশন এলাকা।

এছাড়াও রাঙামাটির কাপ্তাই, কাউখালী, নানিয়ারচর উপজেলায়ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো মানুষ। 

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন টানা বর্ষণের ফলে রাঙামাটি পৌরএলাকাসহ জেলায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জন নিহত হয়। পরের বছর ২০১৮ সালের ১১ জুন নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের চারজনসহ ১১ জনের মুত্যু হয়। 

এদিকে জেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে শহরের ৩৫টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র । একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সর্তকতা মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। 

তবে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীরা বলছেন সরকার বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পর্যন্ত কিছুই করেনি। তাই  তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের নিচে বসবাস করছে।  

শহরের শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, "আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকি। বৃষ্টি আসলে আমাদের কোনো নিশ্চয়তা নাই আগামীকাল বেঁচে থাকবো কিনা। রোহিঙ্গাদের এদেশে জায়গা হয়, কিন্তু আমরা জায়গা পাই না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই আমাদের একটু সুনয়নে দেখার।"

রুপনগর এলাকার তাইজুল ইসলাম বলেন, "আমরা খুব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় থাকি। সরকার যদি আমাদের অন্য ব্যবস্থা করে তাহলে সেখানে চলে যাব।" 

রুপনগর এলাকার মিনু আরা বেগম বলেন, "আমাদের নিজস্ব কোন জায়গায় নাই তাই পাহাড় কেটে ঘর করে বাধ্যগত এখানে থাকি। ভারী বৃষ্টিপাত হলে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাই।"

ভেদভেদীর শেফালী বেগম বলেন, "২০১৭ সালে যে পাহাড় ধস হয়েছে  আমার জীবনে এরকম পাহাড় ধস দেখি নাই।" 

শহরের রুপনগর এলাকার বিলকিছ বলেন, "২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসে এখানে ৩ জন নিহত হয়েছে। বৃষ্টি হলেই আমরা সবসময়ই আতঙ্কে থাকি। কী করবো আমাদের যাবার কোনো জায়গা নাই। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে থাকি।"

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার রবি মোহন চাকমা বলেন, "বর্ষার মৌসুম এলেই আমরা পৌরসভা থেকে সচেতনতামুলক প্রচারণা করে থাকি। রাঙামাটি পৌর এলাকার যেসব ঝুকিঁপূর্ণ ওয়ার্ড আছে সবগুলোতে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।এর পাশাপাশি অতিমাত্রায় যারা পাহাড়ের নিচে বসবাস করছে তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।"

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অন্যত্র পুনর্বাসনের বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এখানে একটি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। একদিনে তা সম্ভব নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।" 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শহরের ৩৫টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র । একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সর্তকতা মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ তৎপরতা পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়েই থাকবে।

About

Popular Links