Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চা-চপ-সিঙ্গারা নিয়ে উপাচার্যের ব্যঙ্গচিত্র বিভ্রান্তিকর, প্রতিবাদ ঢাবির

বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত প্রকাশিত তথ্যগুলোকে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে একটি প্রতিবাদ পাঠিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ১৯ জুন ২০২১, ১০:৫৪ এএম

সম্প্রতি একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি দৈনিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের ব্যঙ্গচিত্রসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যগুলোকে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে তার প্রতিবাদে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে একটি প্রতিবাদ পাঠিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধাশীল। তবে কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনার রীতিনীতি ও মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানি ঘটায় তাহলে দেশের আইন তার যে প্রতিকার দেয় সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।"

সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিকে "Oxford of the East: A moniker that couldn't ring hollower" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একটি ব্যঙ্গচিত্রও আঁকা হয়।

সেই প্রতিবেদনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুলনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সময়কালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যখন গবেষণা করছে, তখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাস্তার ওপর বাঁশ দিয়ে বহিরাগতদের চলাচল সীমিত করতে ব্যস্ত।

এছাড়া, প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটরিয়াতে স্বল্পমূল্যে পাওয়া চা, চপ, শিঙাড়া নিয়ে ২০১৯ সালে নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্যের দেয়া বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করা হয়।

উপরন্তু, করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে ঢাবির ভূমিকা নিয়েও সেই প্রতিবেদনে সমালোচনা করা হয়। তাতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়নি; কোভিড-১৯ টেস্টিং কার্যক্রম শুরু করে বেশ বিলম্বে; কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেয়; বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডজনেরও অধিক আরটি-পিসিআর মেশিন থাকার পরও সেসব দিয়ে জাতির মহাদুর্যোগে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা না করে বসে আছে।

এসবের জবাবে প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যগুলোকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বল হয়, কোনোপ্রকার বিলম্ব ছাড়াই ২০২০ সালের ১৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণ রসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম কোভিড-১৯ রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করে। তিনটি বিভাগের ল্যাবে পঠন-পাঠন ও নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে মোট তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যগুলো কনভেনশনাল পিসিআর মেশিন, সেগুলো কোভিড টেস্ট করার উপযোগী নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিটির মাধ্যমে বিভাগগুলো থেকে তিনটি আরটি পিসিআর মেশিন এনে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে বায়োসেফটি নিশ্চিত করে তিন সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা হয় কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২০ সালের ৫ মে এটির উদ্বোধন করা হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন শিক্ষক দ্বারা এটি পরিচালিত হতে থাকে। কোভিড-১৯ টেস্ট এর জন্য হাসপাতাল বা ডেডিকেটেড ল্যাবের ন্যায় কোনো ল্যাব ও প্রশিক্ষিত জনবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে টেস্টিং কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল; ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। প্রায় দশদিন পর যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে, জনবল সংগ্রহ করে পুনরায় টেস্টিং সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

শুধু কোভিড মহামারির সময়ে ঢাবির ভূমিকা নিয়েই নয়, বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ করা হয় স্বল্পমূল্যের চা, চপ, সিঙ্গারা নিয়ে ঢাবি উপাচার্যের দেয়া ২০১৯ সালের সেই বক্তব্যের সমালোচনারও। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেদিন উপাচার্য মূলত নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথা বলেছিলেন। অথচ এক সাংবাদিক উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাঁট করে ক্যাফেটরিয়ার বিভিন্ন খাবারের মূল্যমান-সংক্রান্ত বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তৈরি করে, যা ভাইরাল হয়ে যায়। তখন সেটিকে বৃহত্তর সমাজের কিছু মানুষের ভিন্ন রুচি ও ভিন্ন মূল্যবোধ হিসেবে ধরে আমলে নেয়া হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি, কোনো কোনো দায়িত্বশীল মহলও বিভিন্নভাবে সেসব যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। কিছু অসাধু চক্র কোনো অপতথ্য বার বার ব্যবহার করে সেটিকে তথ্যে পরিণত করতে চায়, যা জনমনে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে সর্বমহলের সাহায্য কামনা করে বলা হয়, অস্বীকার করার উপায় নেই যে অক্সফোর্ড বা জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঢাবি মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করে টিকা আবিষ্কার বা টেস্টিং কিট উদ্ভাবন করতে পারেনি। তবে এর কারণ বোধকরি অনেকেই জানেন। উপাচার্যের সিনেট অভিভাষণে এর প্রতিফলন থাকে। বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত তথ্য ব্যবহার করে কোনো বিশেষ মহল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা এবং মানহানি ঘটাতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।  


About

Popular Links