Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'টু রেজিস্ট্রার' এর বদলে 'টু হুম ইট মে কন্সার্ন', অতঃপর পদোন্নতি স্থগিত!

তবে পদোন্নতি স্থগিত হলেও তার কাছে সুযোগ আছে আবারও আবেদন করার

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ০৩:৫১ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপককে এক সিন্ডিকেটে পদোন্নতি দিয়ে পরের সিন্ডিকেটে তা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম আনিছুল ইসলাম হকারী অধ্যাপক পদে যোগদানপত্র পেয়ে বেতন-ভাতা অন্যান্য সুবিধা পেয়ে আসলেও রবিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেটে তার পদোন্নতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি এবং ওয়েবসাইটে তার পদ হিসেবে "প্রভাষক" উল্লেখ করা আছে।

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৯তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে পদোন্নতি স্থগিত হলেও তাকে আবারও আবেদন করতে বলা হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৭৯তম সিন্ডিকেট সভার পর গত ১ মার্চ কাজী এম আনিছুল ইসলাম সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। তখন থেকে তিনি সহকারী অধ্যাপকের স্কেলে বেতন-ভাতাদি পেয়ে আসছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি পক্ষ আনিছুলের আগের কর্মস্থল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সনদ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমা দেওয়া হয়নি বলে রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ তোলেন।

ড. মো. আবু তাহের তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আবেদন করা লাগে সে প্রক্রিয়ায় আবেদনটা হয়নি, এটা ধরা পড়ায় সিন্ডিকেট সভায় উনার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কেউ যদি আগের কর্মস্থলের অভিজ্ঞতার কাগজ যুক্ত করে আবেদন করেন তবে তাকে যথাযথ মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ আগের কর্মস্থলের রেজিস্ট্রার এখানকার রেজিস্ট্রার বরাবর তার অভিজ্ঞতা সনদটি পাঠাবেন।

তাহলে আগে তাকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড. আবু তাহের বলেন, “বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি, বাছাই বোর্ড সুপারিশ করলে আমরা তা অনুমোদন করে সিন্ডিকেটে তুলি। উনার ক্ষেত্রেও তারা সুপারিশ করেছিল। তবে পরে বিভিন্ন জায়গায় কথা হলে এবারের সিন্ডিকেটে তার পদোন্নতি স্থগিত করে পুনঃআবেদনের জন্য বলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কাজী এম আনিছুল ইসলাম বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে আমি ঢাকার স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেছি। এখানে যোগদানের সময় ওই অভিজ্ঞতা সনদ দিয়েছি। কিন্তু অভিজ্ঞতা সনদে লেখা আছে 'টু হুম ইট মে কনসার্ন'। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলছেন, 'টু রেজিস্ট্রার' কেন লেখা হয়নি? এটা তাদের আপত্তির জায়গা। আমার প্রশ্ন হলো, রেজিস্ট্রার দপ্তর সবকিছু দেখেই সিন্ডিকেটে উত্থাপন করল। পদোন্নতির চিঠি দিল। যোগদানপত্র গ্রহণ করল। বেতন-ভাতাদিও দিচ্ছে। সম্প্রতি পাসপোর্ট করার সময় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছে। তাহলে এখন কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?"

কুবি উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সভাপতি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, “কাজী আনিছুলের আবেদনে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। এটা ঠিক করার জন্য সিন্ডিকেট বলেছে। তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেছেন, এটা সত্যি। তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ডায়েরি ও ওয়েবসাইটে আগেই প্রভাষক লেখা হলো কেন জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, এগুলো অনেক সময় ভুলে সংশোধন করা হয় না।”

প্রসঙ্গত, একই সিন্ডিকেট সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষক মো. মাহাবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনিও বঙ্গবন্ধু পরিষদ করেন। তার বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এর প্রমাণ চেয়েছেন।

About

Popular Links