Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রংপুরের ৩ সীমান্তবর্তী জেলায় বাড়ছে শনাক্ত-মৃত্যু, নজরদারির অভাব

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ভারত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা আসছে, তাদের কোভিড সংক্রমণ পরীক্ষা ও ১৪ দিনের কোয়ারাইন্টাইনে ঠিকমতো রাখা হচ্ছে না ’

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ১১:৩৭ এএম

দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে গত ৩ দিনে রংপুর বিভাগে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৫ নারীসহ ৩২ জন মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১,৭১২ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫১ জন। ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটে কোভিড সংক্রমণের আশংকাজনক বাড়ছে। গত ২ জুলাই বিভাগটিতে সর্বোচ্চ ৭১৫ জন কোভিড শনাক্ত হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে দিনাজপুরে ১৩ জন, এর পরে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে মারা গেছে ৮ জন, লারমনিরহাটে ৫ জন, গাইবান্ধায় ৩ জন, পঞ্চগড় ও রংপুরে ১ জন করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলাম তিন দিনে ৩২ জন মারা যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হবার পর কোভিড সংক্রমণ কমেনি বরং বেড়েছে। ১ জুলাই রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১ হাজার ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ হয়েছে ৪৬৫ জনের। মারা গেছে ১০ জন। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৪ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন লালমনিরহাটে ৩ জন এবং গাইবান্ধায় ১ জন। ২ জুলাই ২ হাজার ৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে রেকর্ড ৭১৫ জনের কোভিড পজিটিভ হয়েছে। মারা গেছে ৮ জন। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৪ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে ১ জন করে মারা গেছে।

৩ জুলাই ২,৪৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৩২ জনের কোভিড পজিটিভ হয়েছে। মারা গেছে দেড় বছরের মধ্যে রেকর্ড ১৪ জন। এদের মধ্যে দিনাজপুরে ৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ জন, পঞ্চগড়ে ১ জন, লামনিরহাটে ১ জন, রংপুরে ১ জন এবং গাইবান্ধায় ২ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ভারত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা আসছে তাদের কোভিড সংক্রমণ পরীক্ষা ও ১৪ দিনের কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হচ্ছে না বলে ফলে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশে আসার পর তার সংস্পর্শে আসা মানুষরা কোভিড আক্রান্ত হচ্ছে এ ভাবেই কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দিনাজপুরে ফলে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার বাড়ছে দিনাজপুরে বাড়ছে। অন্যদিকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকে মালামাল আসছে ট্রাকের ড্রাইভার হেলপারদের কোভিড সংক্রমণ পরীক্ষা সেভাবে হচ্ছেনা তা ছাড়া মালামাল আনলোড করার পর বেশ কয়েকদিন অবস্থান করছে। এতে করেও  সংক্রমন বাড়ছে।”

তিনি বলেন একভাবে ঠাকুরগা সীমান্ত দিয়ে লোকজন আসায় সেখানেও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। অপরদিকে, লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে আসছে। তাদের কোভিড পরীক্ষা কোয়ারেন্টাইনে রাখার তেমন ব্যবস্থা হচ্ছেনা। এ ছাড়াও বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে আসা ১৪ জন বাংলাদেশী নাগরিকের করোনা পজিটিভ হবার পর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে ঢাকায় পাঠানো হলেও তার প্রতিবেদন দীর্ঘদিনেও পাওয়া যায়নি। ফলে সীমান্ত বর্তী জেলা গুলোতে করোনা সংক্রমন বেড়েছে।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলাম বলেন, “ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোভিডের প্রকোপ বেড়েছে।”

তিনি বলেন, “ওইসব এলাকায় কোভিড পরীক্ষা ও কোয়ারাইনটাইনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে নজরদারি আরো জোরদার করার কথা স্বীকার করেন তিনি।”


About

Popular Links