Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিকার জন্য বানর ধরতে গিয়ে লাঞ্ছিত গ্লোব বায়োটেকের কর্মীরা

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে পুশ করার আগে প্রাণীর দেহে পুশ করে এর কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ০৪:১৬ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারে বানর ধরতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্স-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য তারা বানর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড’র মিডিয়া কনসালটেন্ট আনিছুর রহমান জানান, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে পুশ করার আগে প্রাণীর দেহে পুশ করে এর কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজন। সরকারি অনুমতি নিয়ে তারা বানর ধরতে গিয়েছিলেন। বরমী বাজার এলাকা থেকে ১০টি বানর ধরেন তারা। কিন্তু স্থানীয় কিছু মানুষ বানরের জন্য টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদের সঙ্গে থাকা টাকাপয়সাসহ বানরগুলোও ছিনিয়ে নিয়ে যান যায় তারা।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন লোক বরমী বাজারে বানর ধরতে আসেন। তারা খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বানর ধরেন। তাদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে তাদেরকে বরমী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীরা আরও জানান, শত শত বছর ধরে বরমী বাজারের বাসিন্দারা বানরের নানা অত্যাচার সহ্য সত্ত্বেও যত্ন  করে খাবার দেন। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকার পরও বানরগুলোকে বরমী বাজারবাসী খাবার দিত। বানরগুলোকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে খাঁচায় বন্দী করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

বরমী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, “বানর ধরতে আসা লোকদের কেউ লাঞ্ছিত বা তাদের কাছ থেকে কেউ কিছু ছিনিয়ে নেয়নি। এসব মিথ্যা অভিযোগ। বরং নিয়ম নীতি না মেনে স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে সন্দেহপ্রবণভাবে তারা বরমীর ঐতিহ্যবাহী বানর ধরতে এসেছিলেন।”

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড কর্তৃক আবিষ্কৃত কোভিড-১৯ টিকা বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে প্রয়োগের আগে বানরের দেহে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এজন্য তাদের ৫৬টি বানরের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে গত ২৬ জুন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। তাদেরকে বানর ধরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা গত ২৯ জুন থেকে তিনদিনে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক থেকে ৩০টি বানর সংগ্রহ করেছেন। বাকি বানর ধরার জন্য রবিবার সকালে স্থানীয় প্রাশাসন ও বন কর্মকর্তাদের অবগত না করেই শ্রীপুরের বরমী বাজারে গেলে স্থানীরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করলেও বানর ধরে নিয়ে যেতে পারেননি।

শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, স্থানীয় জনতা তাদেরকে পাকড়াও করে বানরগুলো ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে অজ্ঞান করায় দুটি বানর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেগুলোকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বায়োটেক গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস এর কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা বন মন্ত্রণালয় ও বনবিভাগের অনাপত্তিপত্র তথা কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

About

Popular Links