Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হলো সেন্ট মার্টিনে, ভ্রমণে লাগবে অনুমতি

পর্যটকদের মলমূত্র ও বর্জ্যের কারণে দ্বীপটির পানিতে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০১:৩২ পিএম

অপুরূপ নৈসর্গিক সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে নিষিদ্ধ করা হলো রাত্রিযাপন। ২০১৯ সালের ১ মার্চ থেকে প্রবাল দ্বীপটিতে শুধু দিনের বেলায় পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে বিপন্ন হতে চলা দ্বীপটিকে রক্ষায় রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইন্ট মার্টিন দ্বীপ রক্ষায় গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেইন্ট মার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিটি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার পর্যটক সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে রাত্রিযাপন করে। এতে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে। 

রাত্রিযাপন ছাড়াও দ্বীপের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা-ছেঁড়া দ্বীপ ও গলাচিপা অংশে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। দ্বীপটিতে মোটরসাইকেল, গাড়ি, স্পিডবোট চলাচল করতে পারবে না। রাতে আবাসিক হোটেলগুলোর বাতি জ্বালানোর ফলে কচ্ছপের প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় রাতে দ্বীপে আলো জ্বালানো যাবে না।

দ্বীপে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে দুটিতে নামিয়ে আনা হবে। দ্বীপে যেতে হলে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। দিনে ৫০০র' বেশি পর্যটক সেখানে যেতে পারবে না।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন চলবে। দ্বীপে সব ধরনের নতুন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করে পুরোনো স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে। সেখানে কোনো জেনারেটর ব্যবহার করা যাবে না। আপাতত সৌরশক্তি ব্যবহার করতে হবে। দ্বীপে জমি কেনাবেচা করা যাবে না।

এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে দ্বীপটির সব হোটেল-মোটেল উচ্ছেদ করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। দ্বীপে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দ্বীপটির পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২০ হাজার পর্যটক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের চাহিদা মেটাতে দ্বীপের ভূগর্ভে থাকা পানি তুলে প্রায় নিঃশেষ করে ফেলা হয়েছে। যে কোনো সময় ভূগর্ভের ফাঁকা স্থানে সমুদ্রের লোনাপানি ঢুকে পড়তে পারে। এর ফলে দেশের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আধার দ্বীপটি ধ্বংস হয়ে যাবে। পর্যটকদের মলমূত্র ও বর্জ্যের কারণে দ্বীপটির পানিতে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ এই দ্বীপে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল আছে। ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি-জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। এ ছাড়া ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এখানে দুই প্রজাতির বাদুড় ও পাঁচ প্রজাতির ডলফিনেরও বাস।

About

Popular Links