Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘অনলাইনে পরীক্ষা’ কিংবা ‘অটোপাস’ কোনোটিই নয়, বিড়ম্বনায় পরীক্ষার্থীরা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বড় বড় পাবলিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যেসব প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন তা বাংলাদেশের স্কুল এবং কলেজগুলোর নেই

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০৩:৩২ পিএম

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পিছিয়ে পড়া মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা অনলাইনে হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনলাইনের পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। গত বছরের মতো কোনো মূল্যায়ন ছাড়া বিতর্কিত “অটো পাস” পদ্ধতি এড়াতেই এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পন্থা খুঁজছে তারা।

ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এ বছর পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, এমসিকিউ বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নভিত্তিক মূল্যায়নসহ বেশ কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতি সামনে এনেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি।

এদিকে মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এই সময়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এমনকি গত বছরের ২৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে “জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) নীতিমালা ২০১৮”-এর অধীনে অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণেরও নির্দেশনা দিয়েছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএসএইচই) এবং এটুআইকে যৌথভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বড় বড় পাবলিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যেসব প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন তা বাংলাদেশের স্কুল এবং কলেজগুলোর নেই। 

কমিটি আরও জানিয়েছে, পর্যাপ্ত তহবিল এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধারও অভাব রয়েছে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই চলমান পরিস্থিতে অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেও লড়াই কছে। তাই কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছে।

এই মুহূর্তে যে সকল বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে, এরমধ্যে এইচএসসি এবং এসএসসি শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, এমসিকিউ এবং পূর্বে অংশ নেওয়া পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নকেই সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কমিটির মতে, অ্যাসাইনমেন্ট, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা এমসিকিউ একই শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ বিভাগ (বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা চারুকলা) মোট পাঁচ থেকে ছয়টি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রমসহ মূল্যায়ন করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির এক সদস্য জানান, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে সরাসরি পরীক্ষা নেওয়া। এর জন্য আমাদের হাতে কিছু সময় রয়েছে। তবে ঈদুল আজহার আগেই প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেছেন, শিক্ষাবোর্ড এখনও ব্যক্তিগত পরীক্ষায় নিতে চায়, তবে তা দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতির পরই সম্ভব।

About

Popular Links