Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ফাটল, ভয়ে উঠছেন না ভূমিহীনরা

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, 'কোনো ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙে পড়েনি। কেউ ঠেলা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৯ পিএম

বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরগুলো বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভুল স্থান নির্বাচন, নিম্নমানের কাজের ফলে ভেঙে পড়ছে পিলার, ফাটল দেখা দিয়েছে মেঝে ও দেওয়ালে। টিন চুইয়ে ঢুকছে বৃষ্টির পানি, উঠে যাচ্ছে পলেস্তরা। কোনো কোনো বাড়িতে নেই চলাচলের রাস্তা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভয়ে এসব বাড়িতে উঠছেন না ভূমিহীনরা। অপরদিকে, উঠতে না চাওয়া দুস্থদের বরাদ্দ বাতিলের কথা বলে ৭ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরে উভয় সংকটে পড়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৫৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পায়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এই টাকা ব্যয়ে দুটি ঘর, একটি টয়লেট, একটি স্টোর রুম ও বারান্দা নির্মাণ করা হয়েছে। দুই শতাংশ খাস জমির ওপর এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। ঘর ভূমিহীনদের মাঝে বুঝিয়ে দেওয়া হয় জানুয়ারিতে।

ঘর পাওয়া কয়েকজন জানান, ছয় মাসের মধ্যেই উপজেলার গোছন ও গোপালপুর পুকুরপাড়ের অনেক ঘরের দেওয়াল, মেঝে ও বারান্দার পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। চলাচলের রাস্তা না থাকায় দাসগ্রাম পুকুরপাড়ে ১৭টি ঘরে কেউ এখনো উঠেনি। পরিত্যক্ত এসব ঘর মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। গোপালপুর পুকুরপাড়ের বরাদ্দ পাওয়া  জালাল মন্ডলের বাড়ি এখনও ফাঁকা রয়েছে। বারান্দার পিলার ভেঙে পড়লে সেটা দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হয়।

রিয়াজ উদ্দিন, শাহীনুর, আশরাফ আলীসহ আরও কয়েকজন জানান, তাদের বেশ কয়েকটি ঘরের মেঝেতে ফাটল ধরেছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এ অবস্থা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ঘরগুলো ধসে পড়তে পারে এ ভয়ে তারা পরিবার নিয়ে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, “কোনো ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙে পড়েনি। কেউ ঠেলা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। যে ঘরগুলো একটু ফাটল ধরেছে, সেগুলো মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিফা নুসরাত বলেন, “আমার সময়ে কাজগুলো করা হয়নি। আর কোনো ঘরে ফাটল বা পিলার ভেঙে পড়েনি। অনেক বাড়ি এখনও ফাঁকা রয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তরা না উঠায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়া ফাঁকা বাড়িগুলো যাদের নামে বরাদ্দ তাদের ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বরাদ্দ বাতিল করে অন্যদের দেওয়া হবে।”

এদিকে শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খানপুর বুড়িগাড়ি এলাকায় খালের কিনারায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়। গত জানুয়ারিতে বাড়িগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।  খালের মাটি সরে যাওয়ায় গত ২২ জুনের আগে সাতটি বাড়ির বাথরুম ও রান্নাঘর ভেঙে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন ঘরগুলো সংস্কার করে দিয়েছে।

এছাড়া অবহেলা ও দূর্নীতির দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নির্মাণ কমিটির সভাপতি ও শেরপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলীকে ওএসডি করা হয়েছে

জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন,“নির্মাণ কমিটির অন্যরাও দায় এড়াতে পারবেন না। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links