Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনায় কেন বাড়ছে কোভিডে মৃত্যু ও শনাক্ত?

নগরীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ১০:১৭ এএম

কঠোর লকডাউনের মধ্যেও খুলনা বিভাগে থেমে নেই করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি। বিভাগ ৮ জুলাই ৫১ জনের মৃত্যু ও শনাক্ত ১৭৩২ জন, ৭ জুলাই সর্বোচ্চ ৬০ জনের মৃত্যু ও ১৯০০ জন শনাক্ত হয়। নগরীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এতকিছুর পরও জনসচেতনতা এখনও ‘উচিত’ শব্দে আটকে রয়েছে। সবারই একই কথা ’করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত’। কিন্তু যারা এমন মন্তব্য করেন তারাই মাস্ক পরেন না।  মাস্ক পরলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে মাস্ক পরে শ্বাসকষ্টে মরতে চাই না বলে রসিকতা অনেকের।

কোনভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না পরিস্থিতি। মাঠে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ কোষ্টগার্ড নৌবাহিনীও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারপরও সড়কে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। বরং লকডাউনের সময় যতই বাড়ছে, ততই সড়কে জনসমাগমও বেড়ে চলছে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহন চলাচল। শুরুতে বাজার বিকালের পর বন্ধ হয়ে যেত। আর মূল সড়কে লোকসমাগমও কম ছিল। কিন্তু ৮দিনের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের কঠোরতা মধ্যেও সন্ধ্যার পর মহানগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে হকাররা ভ্যানে করে সবজি, কাপড় চোপড়সহ নানান সামগ্রি নিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। 

গোবরচাকা এলাকার আব্দুর রহমান নামে ৫৫ বছরের একজন বলেন, “মাস্ক ব্যবহার করে আড্ডায় বন্ধুদের সাথে কথা বলা ও হাসি তামাশা জমে না। আর মাস্ক পরে শ্বাস প্রশ্বাস নিতেও সমস্যা হয়। তাই মাস্ক পরা হয় না।”

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, লোকজন এখন অনেক বেশি সচেতন। এখন প্রতি ১০ জনে ৭ জনই মাস্ক পরছে বলে দাবি করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের চেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে জনসচেতনতা অনেক বেড়েছে। আর লকডাউনের শুরুতেইতো সংক্রমণ কমবে না। আগের অসচেতনতার ফলই হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ার বর্তমান রূপ। তবে, ধৈর্য ধরতে হবে। লকডাউনের ফলে সৃষ্ট সচেনতার সুফল শীঘ্রই আমরা দেখতে পাব।”

খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, “করোনাভাইরাসের উর্দ্ধমুখী অবস্থার কারণেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়। খুলনায় ২ সপ্তাহের লকডাউনের ফলে পরিস্থিতির আর অবনতি হয়নি। স্থির অবস্থাতেই রয়েছে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা এর সুফল দেখার অপেক্ষা করছি। তবে, আমাদেরকে আরও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। একই সাথে জনসচেতনতা সৃষ্টির এ অবস্থান ধরে রেখে সামনে আগাতে হবে। তাহলেই চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হবে।”

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বশাক বলেন, কা”ঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন সকাল সন্ধ্যা নিরলসভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যর অপরাধে অভিযান অব্যহত আছে।”

About

Popular Links