Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পোড়া লাশই এখন শেষ ভরসা ইয়াসিনের পরিবারের

গত মার্চে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফি দিতে হবে জন্য নারায়ণগঞ্জের সেজান জুস কারখানায় কাজ নেন ইয়াসিন

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ১০:৫৩ এএম

তিনভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মোহাম্মদ ইয়াসিন (১৭)। গত বছর মাধ্যমিক পাশ করে রূপগঞ্জের কাঞ্চনে সলিমুদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষে ভর্তি হন ইয়াসিন।

পড়াশোনার খরচ যোগাতে টিউশনিও করতেন। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যায় টিউশনি। কিন্তু পরীক্ষার জন্য ফি জমা দিতে হবে। তাই ঝুঁকি জেনেও গত মার্চে ৫ হাজার টাকা বেতনে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় চকলেট তৈরি ইউনিটে কাজ শুরু করে ইয়াসিন।

ইয়াসিনের বড় ভাই ইসমাঈল বলেন, “আব্বু মারা গেছে অনেক আগেই। সংসারের আর্থিক অনটনে যেখানে খেতেই পারি না সেখানে পড়াশুনা আমাদের জন্য বিলাসিতা। কিন্তু ও পড়াশোনা করতে চাওয়ায় কখনও বাধা দেই নাই। তবে খরচ দিতে পারতাম না। তাই নিজেই টিউশনি করে যোগাড় করতো। কোভিডের কারণে টিউশনি বন্ধ, পরীক্ষার ফিও জমা দিতে হবে তাই কোনো উপায় না পেয়ে কারখানায় যোগ দেয় ও। কয়েকদিন আগে টাকা জমাও দিয়ে আসছে। কিন্তু আমার ভাই কই গেল? কে পরীক্ষা দিবে? আদৌ কি বাঁইচা আছে। লাশ কি পামু?”  

ইসমাঈল বলেন, “এর আগেও এ কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকরা এ নিয়ে প্রতিবাদও জানাইছে কিন্তু কারখানা মালিকরা কোনো ব্যবস্থা নেয় নাই। তাছাড়া বেতন-ওভারটাইম নিয়া গড়িমসি করতো । কিন্তু এখানে যারা করে তারা প্রত্যেকেই দিন আনে দিন খায় পরিবার। এই অভাবের সুযোগ নিয়েই কারখানায় কম বয়সী শ্রমিকদের স্বল্প বেতনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাতো। অনেকে তো বেতনও পাইতো না।”  

তিনি আরো বলেন, “এটা নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ গত সপ্তাহ বৃহস্পতিবার ওভারটাইমের দাবিতে প্রতিবাদ করে শ্রমিকরা। এখানে বেশিরভাগ শ্রমিকেরই ওভারটাইম, বেতন কারো ৪ কারো ৫ মাস করে বকেয়া রাখতো। বেতন আসার সময় আসলেই একটা করে দুর্ঘটনা ঘটায়।”

এদিকে, রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত মোহাম্মদ ইয়াসিনের সন্ধান পায়নি পরিবার। ইসমাঈল বলেন, “কোথাও পাই নাই ভাইরে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে দাড়ায় আছি। এখন তো পোড়া লাশই শেষ ভরসা।”

About

Popular Links