Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ময়ূর ও হরিণ বিক্রি করবে জাতীয় চিড়িয়াখানা

প্রতি জোড়া ময়ূর ৫০ হাজার ও  প্রতি জোড়া হরিণ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হবে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ১১:১২ এএম

মহামারীর কারণে অন্যসব বিনোদন কেন্দ্রের মতো দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। ফলে মানুষের উপস্থিতি না থাকায় সঙ্গীর সাথে অধিক পরিমাণে মিলিত হওয়ায় প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তাই বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে প্রায় ১০০ টি ময়ূরসহ কয়েকটি হরিন বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা।

এর আগে গত জুনে ১৬টি চিত্রা হরিণ বিক্রি করে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে ময়ূরের জন্য সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছ থেকে ১২ টি আবেদন পেয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। যাদের বেশিরভাগ খামার মালিক। ক্রয়ের আগে তাদের নিশ্চিত করতে হবে তারা পাখিদের দেখাশোনা করতে পারবে।

চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. আবদুল লতিফ বলেছেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চিড়িয়াখানাটি এখন বন্ধ রয়েছে, তবে পশুর যত্নের কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে, এ কারণেই আমরা অনেক প্রাণীর বাচ্চা পাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “পাখির মধ্যে ময়ূর ও ইমুর উর্বরতার হার ছিল সর্বাধিক। সম্প্রতি পাখির ডিমের জন্য দুটি ইনকিউবেটর কেনা হয়েছিল, এছাড়া পুরনো একটি সংস্কার করা হয়েছিল। নয়টি ইমুর ডিম বর্তমানে ইনকিউবেটেড ও ১৭ টি বাচ্চা ইমু পরিচর্যায় রয়েছে। আর ৭০ টি ময়ূরের ডিম বর্তমানে ইনকিউবেটরে রয়েছে আর বেশ কিছু সংখ্যক সদ্য জন্মানো বাচ্চা বোর্ডিং হাউসে পরিচর্যায় রয়েছে।”

চিড়িয়াখানার পরিচালক আশা করেন যে ময়ূরের ডিমগুলি ৪০-৪২ দিনের মধ্যে ফুটে উঠবে এবং আশা করি যে তাদের মধ্যে ৪০% বেঁচে থাকবে। নতুন এই বাচ্চা ময়ূরগুলি কিছুটা পরিপক্ক হওয়ার পরে এবং টিকা দেওয়ার পরে, দুই মাসের মধ্যে বোর্ডিং হাউস থেকে প্রদর্শিত হবে।

ডা. লতিফ বলেন, “আমরা ১৫ জুলাই থেকে ময়ূর এবং চিতল হরিণ বিক্রি করতে যাচ্ছি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কেবলমাত্র এই দুটি প্রজাতির প্রাণী বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছে কারণ আমরা প্রতি বছর তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বাচ্চা পাই। জাতীয় চিড়িয়াখানায় কেবলমাত্র ৪০টি পূর্ণবয়স্ক ময়ূরকে শেডে রাখতে সক্ষম এজন্যই অতিরিক্ত ময়ূর বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতি জোড়া ময়ূর ৫০ হাজার ও  প্রতি জোড়া হরিণ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হবে।

চিড়িয়াখানা প্রশাসন এবং একাধিক প্রাণী তত্ত্বাবধায়ক মনে করেন যে বর্তমান দর্শনার্থী মুক্ত পরিবেশটি প্রাণীদের জন্য আশীর্বাদ।

বড় প্রাণীর দায়িত্বে থাকা মো. ওসমান গনি বলেছিলেন, “আমি এর আগে এত বেশি প্রাণী কখনও দেখিনি।”

চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. লতিফ বলেছেন: “মহামারীর কারণে এখন সমস্ত প্রাণী নির্বিঘ্নে থাকতে পারছে। তারা ঠিকভাবে খাচ্ছে ফলে তাদের ইমিউন সিস্টেমের পাশাপাশি যৌন আকাঙক্ষাকে বাড়িয়ে তুলেছে। ফলস্বরূপ, আমরা প্রায় প্রতিদিন নবজাতক প্রাণী পাচ্ছি।”

About

Popular Links