Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অগ্নিকাণ্ডের হটস্পটে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ

দেড় বছরে কমপক্ষে ১০৫ জন প্রাণ হারিয়েছে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০২:৪৯ পিএম

অগ্নিকাণ্ডের হটস্পটে পরিণত হয়েছে শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ। গত দেড় বছরে কমপক্ষে ১০৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

জেলা ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, গত বছর শহরের ছোট ও ভারী শিল্পে সব মিলিয়ে ১২৭ টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অসংখ্য ছোট ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অনেক কারখানায় প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম কিংবা শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের অভাব থাকায় এই আগুন প্রায়শই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কারখানার দুর্বল গঠন কাঠামো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ও মানুষকে বাঁচতে অসুবিধা সৃষ্টি করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা দেখেছি যে নারায়ণগঞ্জে ৯০% এরও বেশি কারখানায় অগ্নিনির্বাপনের সঠিক সরঞ্জাম নেই। বাকি কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকায় সেটিও ব্যবহারে অজ্ঞ শ্রমিকরা।”

জেলা ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ৩৩ টি রফতানিমুখী পোশাক কারখানা, ১৩ টি স্থানীয় পোশাক উৎপাদন কারখানা এবং অন্যান্য পণ্য তৈরির বিভিন্ন মাপের ৮১ টি কারখানায় আগুন লাগে। একই বছর বাসা বাড়িতেও ৯২ টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, বয়লার বিস্ফোরণ ও গ্যাস লিকেজ।

উপ-পরিচালক আরেফিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলোর কোনো তালিকা নেই। তবে জেলা ইউনিট এ বছর শতাধিক কারখানা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছে। এসবের কোনোটিরই অগ্নি সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা নেই বলেও জানান তিনি।

৮ জুলাই রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস লিমিটেড কারখানায় ভয়বাহ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “কারখানার প্রতিটি তলায় প্লাস্টিকের বোতলে রাসায়নিক সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। এই রাসায়নিকগুলো সঠিক তাপমাত্রায় না রাখলে তা থেকে অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। কারখানায় যেভাবে রাসায়নিক পাওয়া গেছে তা থেকে বোঝা যায়  সেগুলো বিধি অনুসরণ করে সংরক্ষণ করা হয়নি। করিডোর এবং সিঁড়িতেও পণ্য ছিল যার জন্য ভবনটিতে চলাচল করতে  দমকল বাহিনীর অসুবিধা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আগুন নেভানোর একটিও সরঞ্জাম পাইনি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কারখানা কীভাবে হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছিনা।”

হাশেম ফুডস কারখানাটি ২০০০ সালে অগ্নি নিরাপত্তার অনুমোদন পেয়েছিল:

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (নারায়ণগঞ্জ জোন) উপ-মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া বলেন, “আমরা যখন কোনও কারখানা অনুমোদন করি তখন আমরা এর নথি, বিল্ডিংয়ের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি এবং কতটা যন্ত্রপাতি মজুদ রয়েছে কিনা এসব দেখি। এই কারখানাটি ২০০০ সালে আমাদের অনুমোদন পেয়েছিল।”

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ভূঁইয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ১৯৯৬ সালে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। ভবনটি অবৈধভাবে নির্মিত হওয়ায় এর ডিজাইনের কোনও রেকর্ড নেই।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই।

নারায়ণগঞ্জের নাগরিক কমিটির সভাপতি এ.বি সিদ্দিক বলেন, “আগুনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের দাবি করে আসছিল।”

তিনি বলেন, “মাত্র দুটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।”

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পথের দূরত্বে ২০ থেকে ৩০ মিনিট দূরে হওয়ায় জেলায় বার্ন ইউনিটের দরকার নেই বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।

About

Popular Links