Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোয়ারেন্টিনের টাকা নিয়ে বিদেশফেরতদের ছেড়ে দিচ্ছে হোটেলগুলো

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন না নিয়ে দেশে ফিরলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০৫:০৬ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১২টি দেশ থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন না নিয়ে দেশে ফিরলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। দেশগুলো হলো- আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, জর্জিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে। তবে কেউ যদি কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে আসেন, তবে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। সেক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকবেন তারা।

কিন্তু নজরদারি না থাকায় সরকারের এই নির্দেশনাকে অমান্য করে বিদেশফেরতদের কাছ থেকে কোয়ারেন্টিনের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে সরকার নির্ধারিত অনেক হোটেল। এমনকি ১৪ দিন হোটেলে থাকার ভুয়া বিল হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিমানবন্দর থেকে অনেক যাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। কঠোর এই বিধিনিষেধের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফলে বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য সরকারিভাবে ৯৩ টি হোটেলকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকেই যাত্রীদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা”

বাংলা ট্রিবিউনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী উত্তরার ১১ নং সেক্টরের গ্র্যান্ড লেক ভিউ হোটেলে বিদেশফেরতদের একদিনও কোয়ারেন্টিনে থাকা লাগছে না। বিমানবন্দর থেকেই যাত্রীদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে রেখেছে হোটেলটি।

বিদেশফেরত এক যাত্রীর স্বজন পরিচয়ে হোটেলটির রিজারভেশনে কল করলে তারা জানায়, ১৪ দিনের জন্য হোটেলে বুক করলেই একটা “ব্যবস্থা” করে দেওয়া যাবে।

গ্র্যান্ড লেক ভিউ হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে মনির হোসেন নামের একজন বলেন, “২১ হাজার টাকা দিয়ে বুকিং দিন, সব ব্যবস্থা করে দেবো। আপনার যাত্রীকে আমরা ১৪ দিনের হোটেল বুকিংয়ের ডকুমেন্ট বানিয়ে দেবো। সেটা বিমানবন্দরে দেখালে কেউ সন্দেহ করবে না। বিমানবন্দরে থেকেই যাত্রী নিয়ে চলে যেতে পারবেন। আমাদের হোটেলে এখন কোনও গেস্ট নেই, সবাই বাড়িতে।”

উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে সিটি হোমস নামের এক হোটেলের রিজারভেশনে ফোন করলে তারা জানান, “১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের জন্য ২৫ হাজার টাকা বুকিং দিয়ে হোটেলে আসতে হবে। ২-৩ দিন পর ম্যানেজ করে বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে।”

নূর উদ্দীন ভূইয়া নামে বিদেশফেরত এক যাত্রীর স্বজন বলেন, “আমার এক স্বজন দ্য ডেইজ হোটেল বুক করে ঢাকায় আসেন। তখন তার তিনদিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু হোটেলে যাওয়ার পর করোনার টেস্টের কথা বলে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়।”

উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ব্লু ক্যাসেল হোটেলটির রিজারভেশনের মো. সিরাজ বলেন, “১২ হাজার টাকা দিয়ে বুকিং করেন। তারপর বাকি দায়িত্ব আমাদের। দুই দিন থেকে চলে যেতে পারবেন।”

“পাসপোর্ট কৌশল”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনেক হোটেল বিদেশফেরত যাত্রীদের পাসপোর্ট হোটেলে রেখে দেন। যাতে সরকারি কোন সংস্থা অভিযান চালালে তারা পাসপোর্ট দেখিয়ে বলতে পারেন, এই যাত্রী হোটেলেই আছেন। মূলত যাত্রী পাসপোর্ট রেখেই চলে যান বাড়িতে। চুক্তি হয়-১৪ দিন পর এসে পাসপোর্ট নিয়ে যাবেন।

বেবিচকের নিয়ম অনুসারে, ১২টি দেশ থেকে ফিরে এলে ১৪ দিন সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজখরচে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ফ্লাইটে ওঠার আগেই হোটেল বুকিং করতে হবে।

“প্রশাসনের নজরদারির অভাব”

গত ১১ জুলাই দুবাই থেকে দুজন কোয়ারেন্টিনের জন্য উত্তরার মনসুন ইন হোটেলে ওঠেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তারা সিলেট যেতে বিমানবন্দরে হাজির হন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিট দেখালেই ধরা পড়েন তারা। পরে দুই যাত্রীকে বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালাতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে আবার হোটেলে পাঠানো হয়। হোটেলটির এক প্রতিনিধিকেও থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেলটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, “যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা ২-৩ দিনের অ্যাডভান্স দেয়। তারপর বলে টাকা নেই, থাকবো না। এগুলো নিয়ে বিপদের মধ্যেই আছি। কর্তৃপক্ষকে জানালে বলে, বেঁধে রাখেন। এটা কি সম্ভব?”

এ ছাড়া, হোটেল অ্যাফোর্ড ইন ব্লু ক্যাসেল, হোটেল মিলিনা, মেমেন্টো ইন্টারন্যাশনাল, স্কাই লিংক, লং বিচ, ব্লু বেরি, ক্যানারি পার্কসহ আরও বেশ কিছু হোটেলের বিরুদ্ধেও কোয়ারেন্টিনের নিয়ম না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। আমাদের লোকজন খোঁজখবর নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেবিনেটেও জানোনো হয়েছে।”

About

Popular Links