Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

একাধিক সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার

বিভিন্ন চক্র সিন্ডিকেট করে কৌশলে নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনে প্রচুর লাভে বিক্রি করছেন

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৫ পিএম

বিগত বছরের চেয়ে পশুর চামড়ার দাম সামান্য বেশি বাড়লেও কোরবানির পশুর চামড়ার হকদার সেই এতিম-দুস্থ এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা পড়েছেন আর্থিক ক্ষতির মুখে। কারণ এবারেও চামড়ার বাজার একাধিক চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। বরাবরের মতই তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অল্প দামে কাঁচা চামড়ার বাজার তাদের দখলে নিয়ে আসছে।

বুধবার (২১ জুলাই) ঈদের দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারীবাগে রাস্তার পাশে অসংখ্য অবিক্রীত কোরবানির পশুর চামড়া পড়ে ছিলো।

প্রথমদিকে গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ এবং ছাগলের চামড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠলেও কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেগুলোর দাম গিয়েছে পড়তির দিকে।

বিভিন্ন জায়গা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে সেই চামড়া আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে মৌসুমি ব্যবসায়ী আর ফড়িয়ারা। সেখান থেকে চামড়া যায় ট্যানারিতে। ট্যানারি মালিকরা কত দামে আড়তদারদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে, সেই দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

চলতি বছর ঢাকার ট্যানারি মালিকরা প্রতি বর্গফুট গরু-মহিষের চামড়া কিনেছেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দর ৩৩ টাকা থেকে ৩৭ টাকা করে। এছাড়া, সারাদেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রতি বর্গফুট গরু-মহিষের চামড়ার ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দাম ২৮ থেকে ৩২ টাকা করে ছিলো।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার কর্তৃক চামড়ার দাম বাড়ানো হলেও আড়তদাররা কৌশলে দাম দিচ্ছেন না তাদের। বুধবার সকালে যে দাম ছিল, দিনের শেষে সেই দাম আরও কমতে শুরু করে।

এদিকে, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের দাবি, গতবারের চেয়ে এবার তারা অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে প্রতি পিস চামড়া কিনছেন।

ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেট চক্র চামড়ার ধারকাছ দিয়েও যায়নি। ফলে চামড়ার কদর নেই মনে করে লাখ লাখ কোরবানিদাতা বাধ্য হয়ে চামড়া এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছেন। আবার অনেকেই দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে ক্রেতা না পেয়ে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করেছেন। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট চক্রটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার কাছ থেকে চামড়া কিনে নেয়। কারণ সিন্ডিকেট চক্র জানে ফঁড়িয়া বা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের তুলনায় মাদ্রাসা ও এতিমখানার কাছ থেকে সস্তায় চামড়া কেনা সম্ভব।

About

Popular Links