Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার পুলিশি প্রতিবেদনে বসুন্ধরা এমডিকে ‘অব্যাহতি’

মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনায় সায়েম সোবহান আনভীরের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি পুলিশ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২১, ১১:১৪ পিএম

কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) মৃত্যুর ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি পুলিশ।

মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সোমবার (১৯ জুলাই) আদালতে দাখিল করেছে গুলশান থানা পুলিশ। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুলাই আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনিয়া আত্মহত্যা করার অভিযোগে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলে আনভীরের বিরুদ্ধে মুনিয়ার বড় বোন নুসরত জাহান মামলা করেছিলেন। গত দু’বছর ধরে তাদের গোপন সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে মামলার অভিযোগকারী নুসরাত গণমাধ্যমকে বলেন, তারা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অনাস্থার আবেদন করবেন।

এর আগে পুলিশ সাংবাদিকদের বলেছিল, আনভীরকে মুনিয়ার গুলশানের ফ্লাটে প্রবেশ করতে ও বের হতে দেখা গিয়েছিল।

পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২০ এপ্রিল আনভীরকে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে ও বের হতে দেখা গিয়েছিল।

অন্যদিকে, মুনিয়াকে গত ২৫ এপ্রিল রাতে সর্বশেষ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনার দিন মুনিয়া ফ্ল্যাট থেকে বের হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় মুনিয়ার বোন নুসরাত মুনিয়ার গুলশানের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার ঝুলন্ত দেহ আবিষ্কার করে এবং পুলিশে খবর দেয়।

২৭ এপ্রিল গুলশান পুলিশের ওসি আবুল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আনভীরের উপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। 

পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল আনভীর এ মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। এবং ২৯ এপ্রিল হাইকোর্ট আবেদনের শুনানি খারিজ করে দেয় এবং সেদিনই আনভীরের স্ত্রীসহ তার পরিবারের আরও চার সদস্য চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেন।

পুলিশ জানিয়েছিল, মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ছয়টি হাতে লেখা ডায়েরি উদ্ধার করেছে তারা। ডায়রিগুলোতে তার সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি, বিবাহিত জীবন সম্পর্কে তার প্রত্যাশা, তার সঙ্গীর সাথে দূরত্ব এবং পারিবারিক সমস্যা সম্পর্কে লিখেছিল মুনিয়া।

ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার (গুলশান) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ২৮ শে এপ্রিল বলেছিলেন, “হতাশায় ডুবে থেকে মুনিয়া ভীষণ সঙ্কটে পড়েছিলেন। ডায়েরির পাতায় মানসিক টানাপোড়েনের প্রমাণ রয়েছে। মানসিক অশান্তির কারণে তিনি আত্মহত্যা করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।”

এ ঘটনার পর গত ২ মে মুনিয়ার বোন কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে তাকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

একই দিন মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মুনিয়ার মৃত্যুর জন্য হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুনকে অভিযুক্ত করেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া আবেদনটি গ্রহণ করলেও, আত্মহত্যার ঘটনায় মামলার তদন্ত চলমান থাকায় এ নিয়ে যে কোনো কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছিল।

About

Popular Links