Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুন্দরবন `বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য' কিনা, সিদ্ধান্ত আগামী বছর

এ বছর সুন্দরবনকে 'বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য' ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিপক্ষে মত জানায় মিসরসহ ১৮টি রাষ্ট্র

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০১:৪৬ পিএম

সুন্দরবনকে "বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য" ঘোষণা করার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জানা যাবে ২০২২ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৫তম সভায়। চীনের ফুঝোও শহরে চলমান বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় গতকাল শুক্রবার (২৩ জুলাই) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রচলিত দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।

প্রতিবেদনে জানা যায়, সুন্দরবনের ওপর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার বিস্তারকৃত প্রভাব নিরূপনে সরকারের শুরু হওয়া কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) আগামী বছরের আগস্টের মাঝে শেষ করতে হবে। সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষায় ইউনেস্কোর দেওয়া ১৪টি শর্ত বাংলাদেশ কতটুকু পালন করল, সে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মাঝে। সবকিছু পর্যলোচনার পরেই জানা যাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সম্মেলনের গতকালের সভায় ২১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের সুন্দরবনের ওপরে তৈরি করা খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা হয়। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মিশরের প্রতিনিধি শুরুতেই চলতি বছরে সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিপক্ষে মত দেন। তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ অল্প আয়তনে বিপুল জনসংখ্যা নিয়েও উন্নয়নের দিকে ধাবমান।

মিসরের প্রতিনিধির বক্তব্যের পর একে একে চীন, রাশিয়া, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব, ওমান, তাজিকিস্তানসহ ১৮টি রাষ্ট্র সুন্দরবনের বিষয়ে এ বছরে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পক্ষে একমত পোষণ করে।

এরপর নরওয়ের প্রতিনিধি সুন্দরবনের আশেপাশের বড় বড় শিল্পকারখানার কাজ বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন। তার যুক্তি, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চারপাশের ভারী শিল্পকারখানার কারণে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি তার মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বক্তব্য দেন। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অড্রে এজোলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের রক্ষায় জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত দেন।

পরবর্তীতে সভার সভাপতি টিয়াম ঝিওজামের আহবানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. কাজী ইমতিয়াজ হোসেন তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকার নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি যেসব রাষ্ট্র এ সভায় বাংলাদেশের অনুরোধের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে সভার সভাপতি টিয়াম ঝিওজাম বাংলাদেশকে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অপারেশনাল নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ), বিশ্ব ঐতিহ্যের ওপরে শিল্পকারখানার প্রভাব এবং কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা আগস্টের মধ্যে শেষ করে জমা দিতে বলেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ধারের কাছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো না করে বিকল্প কোথাও করা যায় কি না, সে ব্যাপারে যাচাই করে দেখতে অনুরোধ করেন।

গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সম্মেলন চলবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল ওই প্রতিবেদনে জানান, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের শর্ত অনুযায়ী সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল স্থানে রামপালসহ বড় শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির রিঅ্যাকটিভ মনিটরিং মিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশ মেনে সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি জানান।

About

Popular Links