Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুই সপ্তাহ ধরে গোপালগঞ্জে পিসিআর ল্যাব বিকল

জেলাটিতে বর্তমানে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ০৪:৫৫ পিএম

গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে গত ১৪ দিন ধরে করোনাভাইরাস পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। জীবাণু সংক্রমণের ফলে পিসিআর ল্যাব বিকল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে গোপালগঞ্জে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই থেকে মেডিকেল কলেজের একমাত্র আরটি-পিসিআর ল্যাবটি বিকল রয়েছে। ইতোমধ্যে ল্যাবটি বিভিন্ন ধাপে জীবাণুমুক্ত করে কয়েকবার পরীক্ষা করা হলেও সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যায়নি। 

এর আগে জীবাণু সংক্রমিত পিসিআর ল্যাবে যেসব নমুনা পরীক্ষা করা হয় সেখানে শনাক্তের হার ছিল শতকরা ৫২.২%। শনাক্তের উচ্চহার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ল্যাবের জীবাণু সংক্রমণের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এরপর গত ১৬ জুলাই ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরী মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য ৯৩৬টি নমুনা পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২২০ জনের তালিকা পাওয়া যায়। ওই তালিকায় ৬২ জনের কোভিড শনাক্ত হয়। ফলে সংক্রমণের হার দাঁড়ায় শতকরা ২৮.১ শতাংশে।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এস.এম সাকিবুর রহমান বলেন, "মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব বিকল হওয়ার পর র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে কোভিড পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১,৯৩১ জনের পরীক্ষা করা হয়, যেখানে ৫৩২ জন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়। শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৭.১ শতাংশে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরী মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টার ও র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের ফলাফলের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য রয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব টেস্টের ফলাফল ও অপর দুটি টেস্টের ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি।"

তিনি আরও বলেন, "হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণ র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে করোনাভাইরাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ৪০ হাজার র‌্যাপিড এন্টিজেন কিটের চাহিদা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ২১,৯৫০টি র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট পাওয়া যায়।"

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন বলেন, "আরটি-পিসিআর মেশিনে মূলত কোন ত্রুটি নেই। ল্যাব দূষণমুক্ত রাখতে হলে মাঝে মধ্যে বিরতি দিতে হয়। এ কারণে ল্যাবটি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারসহ একটি টিম ল্যাবটি পরীক্ষা করেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এই ল্যাবে আবারো করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, "ল্যাব বন্ধ থাকায় পরীক্ষা থেমে নেই। এর মধ্যে ঢাকা থেকেও নমুনা পরীক্ষা করে আনা হয়েছে। এছাড়া, র‌্যাপিড এন্টিজেন কিটের মাধ্যমে পরীক্ষা অব্যাহত আছে।"

About

Popular Links