Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইভ্যালির পাশে কেন দাঁড়ালো যমুনা গ্রুপ?

এমন একটি সময় এ ঘোষণা দিয়েছে যমুনা গ্রুপ, যেসময় অগ্রিম অর্থ নিয়ে দীর্ঘসময় পরও পণ্য না দেওয়া, অর্থ ফেরত না দেওয়াসহ বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:০৮ পিএম

দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগসহ ধারাবাহিকভাবে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দেশের শিল্প খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইভ্যালির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এমন একটি সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যমুনা গ্রুপ, যেসময় অগ্রিম অর্থ নিয়ে দীর্ঘ সময় পরও পণ্য না দেওয়া, অর্থ ফেরত না দেওয়াসহ ক্রেতা “ঠকানোর” মতো বেশকিছু অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অনলাইন এ মার্কেটপ্লেসটি।

এ প্রসঙ্গে যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মনিকা ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “প্রতিষ্ঠানটির অর্থ তহবিল ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু সমস্যা রয়েছে, এমন চিত্র আমাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির অব্যবস্থাপনা এবং মার্কেট এক্সেসের জন্য পণ্যের ভর্তুকি পেতে তাদের বিনিয়োগকারী প্রয়োজন ছিল। প্রত্যেকটির ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বেশকিছু স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) মেনে চলতে হয়। কোভিড মহামারির এ  দুঃসময়ে দেশের ই-কমার্স খাতকে এগিয়ে নিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করবে ইভ্যালি। এমনটাই যমুনা গ্রুপের বিশ্বাস।”

ই-কমার্সই বাণিজ্য খাতের ভবিষ্যৎ, এজন্য এ খাতে বিনিয়োগ এবং এর গ্রাহকরাই আমাদের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

এর আগে, জুনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তে বের হয়ে আসে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩.৮০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথা ছিল, তবে রয়েছে মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকের কাছ থেকে ২১৩.৯৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯.৮৫ কোটি টাকার মালামাল বাকিতে গ্রহণ করে তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রাহকদের মাত্র ১৬.১৪% দেনা মেটানোর ক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এ প্রসঙ্গে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এক ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “প্রতিবেদনটির তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।” সুযোগ দেওয়া হলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অপো, স্যামসং টেকনো, যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স, বসুন্ধরা গ্রুপ, বাটা, কোকাকোলার মতো বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কি এসব না বুঝেই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন বলেও প্রশ্ন ছোড়েন তিনি।

যমুনার এমন বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, “একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসাবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এ বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।” 

এসময় গ্রাহকদের পুরোনো অর্ডার ডেলিভারি নিয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, “পুরোনো অর্ডার যেগুলো পেন্ডিং সেগুলো ডেলিভারির ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার) দিচ্ছি, প্রয়োজনে আমরা আরও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করবো।”

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “যমুনার কাছ থেকে পাওয়া বিনিয়োগ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।” এসময় দেশের বাইরে থেকেও বিনিয়োগের আশা করছে তার প্রতিষ্ঠান বলেও জানান তিনি। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দায় পরিশোধের স্বার্থে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হলেও এ অবস্থা থেকে ইভ্যালি বের হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়।” প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ যদি ১০ টাকা থাকে তবে এর দেনা রয়েছে ৯০ টাকা, এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা কি আদৌ সম্ভব বলেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। 

About

Popular Links