Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পরিবহনের দাবিতে রংপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ

পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। যেভাবেই হোক তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ০৫:১৪ পিএম

ঢাকায় যাবার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করার দাবিতে রংপুর নগরীর মর্ডান মোড়ে হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক রংপুর ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। মহাসড়ক অবরোধের কারণে মালামাল বহনকারী ট্রাকসহ সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আগামীকালই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে কাজে যোগদানের জন্য ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে রংপুর ও পাশের জেলাগুলো থেকে শ্রমিকরা নগরীর প্রবেশ দ্বার মর্ডান মোড়ে সমবেত হতে থাকে। বেলা ১২ টার দিকে পুরো মর্ডান মোড় এলাকা লোকারণ্যে পরিণত হয়। হাজার হাজার নারী ও পুরুষ গার্মেন্টস শ্রমিক ঢাকা যাবার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করার দাবিতে রংপুর ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে মহাসড়কের দু’পাশে শত শত ট্রাক সহ যানবাহন আটকা পড়ে। 

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে সব পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সুযোগে শ্রমিকরা বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু হঠাৎ শুক্রবার ঘোষণা আসে, রবিবার থেকে কারখানা খোলা। শ্রমিকদের ঢাকায় যাওয়ার পরিবহনের ব্যবস্থা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত হয়নি সংশ্লিষ্টদের। এখন কীভাবে কর্মস্থলে যাবেন তারা। ১৫ দিন কারখানা বন্ধের কথা শুনে লাখ লাখ শ্রমিক ঈদ উদযাপন করতে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় এসেছেন। এখন দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে তাদের কারখানায় যেতে হচ্ছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক শ্রমিক। কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না বলে কারখানা থেকে জানানো হয়েছে তাদের।

গার্মেন্টস শ্রমিক মমতাজ বেগম জানান, তার বাড়ি কুড়িগ্রামের শেস সীমানা নাগেশ্বরী এলাকায়। ৫ আগষ্ট পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ জেনে বাসাতেই ছিলেন। শুক্রবার রাতে রবিবার থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী খোলার খবর শুনে মাথার উপর যেন বাঁজ পড়েছে। রাতেই অটোতে রিকশায় ভ্যানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে মর্ডান মোড়ে এসেছেন। এখানে এসে দেখেন কোন যানবাহন নেই। মমতাজ বেগম বলেন “গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী খুলে দেবার আগে সরকারের বাস ট্রেন খুলে দেয়া উচিত ছিলো। এখন কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। দুই সন্তান নিয়ে খাবো কি?”

একই কথা জানালেন গার্মেন্টস শ্রমিক সাহেরা বেগ, আকলিমা সহ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ থেকে আসা আরও অনেকে।

নীলফামারী থেকে আসা পোশাকশ্রমিক আবদুল হাফিজ বলেন, ‘অনেক কষ্টে ভেঙে ভেঙে ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা দিয়ে রংপুর পর্যন্ত এসেছি। এখন ঢাকায় যাবো কীভাবে। পথে আটকাপড়ার বিষয়টি কারখানার ম্যানেজারকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, রবিবার সকালে কাজে যোগ না দিলে চাকরি নেই। বিকাল পর্যন্ত রাস্তায় বসে আছি। কীভাবে চাকরি বাঁচাবো?’

লালমনিরহাট সদরের মোগলহাট থেকে আসা পোশাকশ্রমিক সাহাবুল, আমজাদ ও সাহেব আলী জানান, তাদের এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ঢাকা-গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করেন। অনেক কষ্টে রংপুর পর্যন্ত এসেছেন। গাড়ি না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন তারাও।

রংপুরের পোশাক শ্রমিকনেতা আহাম্মেদ আলী বলেন, বিভাগের প্রায় ২৫-৩০ লাখ নারী-পুরুষ ঢাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাকরি করে। বাস-ট্রেন চালুর পর কারখানা খোলা উচিত ছিল। যারা এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তারা শ্রমিকদের কথা একবারও ভাবেননি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছি। বিভাগের আট জেলার মানুষকে নগরীর মডার্ন মোড় দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় সবার যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে পোশাকশ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। যেভাবেই হোক তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে।

About

Popular Links