Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারী যাত্রীকে রেখে ফ্লাইট চলে যাওয়ার ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন

যুক্তরাজ্য প্রবাসী যাত্রী জামিলা চৌধুরী বলেন, 'ওই কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে আমার ওপর পাসপোর্ট ছুঁড়ে মারেন এবং অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন'

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ০৬:২৮ পিএম

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারীকে রেখেই ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দু’টির মধ্যে একটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২ আগস্ট) থেকে দু’টি তদন্ত কমিটিই কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ওসমানী বিমানবন্দর সূত্র।

বাংলাদেশ বিমানের তদন্ত কমিটিতে জিএম (কাস্টমার সার্ভিস) মো. মনিরুল ইসলাম ও ম্যানেজার মো. সারোয়ার হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। তবে কমিটির অপর সদস্যর নাম জানা যায়নি। অন্যদিকে, সিভিল এভিয়েশনের গঠিত কমিটিতে ওসমানী বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের সিলেট ডিসট্রিক্ট ম্যানেজার (ডিএম) ফারুক আলমকে কয়েক দফায় ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ তাহেরা খন্দকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অপেশাদারি আচরণের জন্য গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার কাওসার আলী মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত এবং গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার মাখলেছুর রহমানকে সিলেট স্টেশন থেকে প্রত্যাহার করেছে। 

তিনি আরও জানান, প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ওই যাত্রীকে বিমানের পরবর্তী ফ্লাইটে লন্ডন পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ জুলাই) বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যুক্তরাজ্য প্রবাসী যাত্রী জামিলা চৌধুরীকে রেখেই উড়াল দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমানের সরাসরি ফ্লাইটের (বিজি-২০১) যাত্রী ছিলেন ভুক্তভোগী জামিলা চৌধুরী। ঘটনার দিন (বুধবার) ওই ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা থাকলেও ওসমানী বিমানবন্দরের কিছু কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক ও অন্যায় আচরণের কারণে ফ্লাইটে উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

জামিলা চৌধুরী জানান, সেদিন নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বিমানের কাউন্টারে পৌঁছান তিনি। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার কাছে লোকেটর ফর্ম চান। তখন মোবাইলে থাকা লোকেটর ফর্মটি দেখালেও প্রিন্ট কপি দেখতে চান এক কর্মকর্তা। 

তিনি বলেন, “বারকোডযুক্ত লোকেটর ফর্মের প্রিন্ট কপি বাধ্যতামূলক হতে পারে না। কারণ সবকিছুই এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয়। তারপরেও আমি বিমানবন্দরের নির্ধারিত কাউন্টারে লোকেটর ফর্ম প্রিন্ট করার জন্য যাই। কিন্তু সেখানে দীর্ঘ লাইন থাকায় তা প্রিন্ট করাতে বেশ কিছু সময় চলে যায়।"

জামিলা চৌধুরী আরও বলেন, "পরে লাগেজে অতিরিক্ত ওজনের কারণে আমার কাছে উৎকোচ (ঘুষ) টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। আমি অতিরিক্ত ওজনের লাগেজ ফিরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র একটি লাগেজ নিয়ে আমাকে বোর্ডিং পাস দেওয়ার কথা জানালে ওই কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে আমার ওপর পাসপোর্ট ছুঁড়ে মারেন এবং অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। এমনকি আমাকে বোর্ডিং পাস না দিয়েই লাইন থেকে বের করে দেন।”

"পরে তিনি বিমানবন্দরে থাকা অবস্থায়ই নিজের মোবাইলে কয়েকটি ভিডিও ধারণ করেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কর্তব্যরত বিমান কর্মকর্তা বলছেন, “আমাদের মধ্যে হিউমিনিটি (মানবতাবোধ) নেই। আপনি ম্যানেজারের কাছে যান, আমরা আপনাকে কোনও সাহায্য করতে পারব না। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় সাহায্য চাইতে গেলে এক কর্মকর্তা লাগেজ বেল্টের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পালাচ্ছেন।"

তবে, বিমান কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত ওজনের লাগেজের কারণে তাকে ছাড়াই ফ্লাইট ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শনিবার ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমান বাংলাদেশ সিলেটের জেলা ম্যানেজার এম ফারুক আলমের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং তাকে আরেকটি ফ্লাইটের লন্ডনে পাঠানোর অনুরোধ জানান।

About

Popular Links