Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাল্যবিয়েতে শেষ হলো দেশ সেরা ফুটবলারের স্বপ্ন

২০১৭ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে হ্যাটট্রিক গোল করে ‘স্বরলিকা’ উপাধিতে ভূষিত হয় সে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করেছিল সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ০৬:০০ পিএম

২০১৭ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করেছিল সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার। অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে স্বরলিকা উপাধিতে ভূষিত হয়েছিল সে। কিন্তু গ্রামের মাতব্বর আর স্বজনদের চাপে বাধ্য হয়েই মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বসতে হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে!

বলছিলাম কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও দেশ সেরা নারী ফুটবলার স্বরলিকা পারভীনের কথা।

বাল্যবিয়ের কারণে দেশ হারাল উদীয়মান এক নারী ফুটবলারকে। হয়তো এই স্বরলিকার হাত ধরেই একদিন বাংলাদেশের নারী ফুটবল স্বপ্ন ছুঁতে পারতো।

অনেকটা জোর করেই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন বাবা শহিদুল ইসলাম।

স্বরলিকার ইচ্ছে ছিল দেশ সেরা ষ্ট্রাইকার হবেন। কিন্তু বিয়ের বয়স হবার আগেই সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে স্বামীর সংসার করতে হচ্ছে তাকে। আর তাই হয়তো নীরবে কাঁদেন স্বরলিকা লালিত স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার বেদনায়।

স্বরলিকা পারভীন ছিল বাঁশজানি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। ২০১৭ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফটবল প্রতিযোগীতার ফাইনাল খেলায় হ্যাটট্রিক গোল করে স্বরলিকা উপাধিতে ভূষিত হয় সে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করেছিল সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার। এরপর বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়ে সে আরও বেশ কিছু পদক অর্জন করেছিল। আর তার কারণেই বাঁশজানি গ্রাম পরিচিতি পায় নারী ফুটবলের গ্রাম হিসেবে।

স্বরলিকা পারভীন বলেন, “ফুটবল প্রশিক্ষক আতিকুর রহমান খোকন ভাইয়ের প্রশিক্ষণের ফলেই এই অর্জন। ইচ্ছে ছিল জাতীয় দলের হয়ে খেলবো। কিন্তু গরীব মানুষের স্বপ্ন দেখতে নেই। দীর্ঘ সাধনা আর পরিশ্রম সব শেষ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় খেলা ও অনুশীলন বন্ধ হয়ে গেল। গ্রামাঞ্চলে ১৪ বা ১৫ বছর বয়স হলেই মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। গ্রামের মাতব্বরসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাপ আসতে শুরু করেছিলো। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা জোর করে বিয়ে হলো।”

স্বরলিকা আরও জানান, তার বাল্য বিয়েটাই জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্ষেপ করে জানালেন তাকে জোর করেই বাল্য বিয়ে দেয়া হচ্ছে এমন খবর উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর চেষ্টা করেও কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে স্বরলিকার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি গরীব মানুষ। করোনাভাইরাসের কারণে বেকার হয়ে পড়েছি। কেউ খোঁজ নেয় নাই। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়েসহ ৫ জনের সংসারের ঘানি টানা সম্ভব হচ্ছিলোনা। ভালো ঘর পেয়েছি ছেলে ভালো কোন ডিমান্ড (যৌতুক) ছাড়াই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি।”

বাল্যবিয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “গরীবের ঘরে মেয়ে একটু বড় হলেই নানান সমস্যা। কিছু করার ছিলোনা।

স্বরলিকার ফুটবল প্রশিক্ষক আতিকুর রহমান খোকন জানান, যদি স্বরলিকার মতো মেয়েদের আর্থিকভাবে সহায়তা দেওয়া যেতো তাহলে অল্প বয়সে বিয়ে হতোনা।

বাঁশজানি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়সার আলী জানান, স্বরলিকার বিয়ের বিষয়টি পরে জেনেছি। আগে জানলে বিয়েটা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতাম। এখন বিয়ে হয়ে গেছে কিছু করার নেই।

পাথরডুবি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরফান আলী জানান, স্বরলিকার বিয়েটা হয়েছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির অগোচরে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে বাল্যবিয়ে হচ্ছে।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেবশর্মা জানান, কিশোরী খেলোয়াড় স্বরলিকার বাল্যবিয়ের খবরটি তিনি জানতেন না। জানলে অবশ্যই বিয়ে বন্ধ করার সকল পদক্ষেপ নেওয়া যেতো। পাশাপাশি স্বরলিকাকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

About

Popular Links