Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিকার কথা বলে ডেকে নিয়ে নারীকে পেট্রোল ঢেলে হত্যার চেষ্টা

ওই নারীর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। নরসিংদীর রায়পুরার এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ০৭:২৯ পিএম

নরসিংদীর রায়পুরায় টিকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পারভীন আক্তার (২৭) নামে এক নারীকে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে। 

ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

এ ঘটনায় সাবেক স্বামী জাকির হোসেনের ভাই ও ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রায়পুরা উত্তরবাখর নগর ইউনিয়নের লোচনপুর এলাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শনিবার (৭ আগস্ট) রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখর নগর ইউনিয়নের লোচনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী ওই নারীর ছোটভাই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নরসিংদীর রায়পুরা মরজাল এলাকার হাফিজ উদ্দীন মুন্সির ছেলে ও জাকির হোসেনের ভাই আলী হোসেন (৩২) এবং তার ভাগ্নেএকই এলাকার কাজী আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. শাহরিয়ার (১৮)।  

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়পুরা থানার এসআই মো. কামাল হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ১০ থেকে ১২ বছর আগে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মরজাল এলাকার বাসিন্দা হাফিজ উদ্দীন মুন্সির ছেলে প্রবাসী জাকির হোসেনের সাথে বিয়ে হয় নির্যাতনের শিকার পারভীন আক্তারের। তাদের পরিবারে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানও রয়েছে।

বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কলহ চলে আসছিলো। স্বামী প্রবাসে থাকায় প্রায় সময় নানান অযুহাতে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ পারিবারিক কলহের জেরেই গত আট মাস আগে জাকির হোসেনের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় পারভীন আক্তারের। এরপর থেকে বাবার বাড়িতেই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি ।

 কিন্তু শনিবার সাবেক স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী রহিমা খাতুন ফোন দেয় পারভীন আক্তারকে। টিকার কথা বলে পারভীন আক্তারকে নিয়ে রহিমা খাতুন ও আলী  হোসেন  সিএনজি ভাড়া করে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ায়। পরে রাতে রায়পুরা-বারৈচা সড়কের পাশে লোচনপুর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নির্জনস্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পেট্রোল ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় আলী হোসেন ও তার সহযোগীরা। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর ছোট ভাই এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীও পুলিশের কাছে আসামীদের নাম পরিচয় বলেছে। তার দেয়া বক্তব্য অনুসারে আলী হোসেন ও তার ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলমান রয়েছে।  

এদিকে পারভীন আক্তারের ভাই আকরামের অভিযোগ, স্বামী জাকির হোসেন প্রবাসে থাকার কারণে শ্বশুর বাড়িতে দেবর আলী হোসেন, ননদ, শ্বশুর, শ্বাশুড়ীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন তার বোন।

তিনি বলেন, “গত বছর তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আলী হোসেন আমার বোনের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেন। পরে এ ঘটনায় পারভীন আক্তার নিজে বাদী হয়ে মামলা করলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। প্রায় সময়ই এ নিয়ে মারধর করতো তাকে। এরপর প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে মেয়েকে বাবার বাড়িতে চলে আসে সে। এরপর এই বছরের শুরু দিকে স্বামী জাকির হোসেনের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু বিচ্ছেদের পরও মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিলো ।”

তিনি আরও বলেন, “তারা আমার বোনকে হত্যা উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। আলী হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার জের ধরেই আমার বোনকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে আলী হোসেন ও তার পরিবার। ”

About

Popular Links