Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোভিড: সিলেটের কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে মৃতদের দাফন-সৎকারের ব্যস্ততা

এ বছর প্রথম চার মাসে ৪৫০ নারী পুরুষের দাফন ও সৎকার হলেও গত ৩ মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  ৬০০ তে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ০৯:০৬ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে মৃতদের দাফন ও সৎকারে ব্যস্ততা আগের চেয়ে বেড়েছে। সিলেট নগরীতে বেশিরভাগ মৃতদেহকে সমাহিত ও সৎকার করা হয় এ দুটি স্থানে।

সিলেট সিটি করর্পোরেশনের (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, মানিক পীর (রহ:) কবরস্থান ও চালিবন্দর শ্মশানে এ বছর প্রথম চার মাসে ৪৫০ নারী পুরুষের দাফন ও সৎকার হলেও গত ৩ মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ তে। ২০২০ সালের মে মাস থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত কোভিডে মারা যাওয়া ৮৪ জনকে মানিক পীর (রহ:) কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। এর বাইরে কোভিড উপসর্গে মারা যাওয়াদেরও দাফন করা হয়েছে এ কবরস্থানে।

সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৮ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯ জনকে মানিক পীর (রহ:) কবরস্থান ও চালিবন্দর শ্মশানঘাটে দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। এর মধ্যে মানিক পীর (রহ:) গোরস্থান ৭৪১ জনকে দাফন হয়।৮ আগস্ট পর্যন্ত আরও ৩৫ জনকে দাফন করা হয়। এর মধ্যে ৯ জন ছিলেন কোভিডে মৃত্যুবরণকারী। চালিবন্দর শ্মশানঘাটে ২৭৩ জনের সৎকার করা হয়েছে। 

কবরস্থানের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অন্যান্য মাসগুলোর তুলনায় গত তিন মাস অধিক সংখ্যক মৃতদেহ মানিক পীর (রহ:) কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ১৯৬ জন, জুন মাসে ৮৮ জন এবং মে মাসে ১০৯ জনকে দাফন করা হয়েছে। সেই তুলনায় এ বছরের এপ্রিল মাসে ৯৯ জন, মার্চ মাসে ৭৬, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭৭ জন এবং জানুয়ারি মাসে ৯৬ জনকে দাফন করা হয়। 

অন্যদিকে শ্মশানের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চালিবন্দর শ্মশানঘাটে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সৎকারের চিত্র গত দুই মাসে হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত জুলাই মাসে ৬৮ জন, জুন মাসে ৬৯ জনকে সৎকার করা হয়েছে। এর আগের মাসগুলোতে এর সংখ্যা ছিলো অর্ধেক। মে মাসে ৩৩, এপ্রিল মাসে ২৮, মার্চে ৩২, ফেব্রুয়ারিতে ২৫ এবং জানুয়ারিতে ১৮ জনের মরদেহ সৎকার করা হয়েছিল। 

মানিক পীর (রহ:) কবরস্থানের সুপারভাইজার রজব আলী বলেন, “২০২০ সালের মে মাসে করোনাভাইরাসে মৃত রোগীর মরদেহ নিয়ে হাজির হতেন ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কবরস্থানে নিয়োজিতদের দিয়ে জানাযা পড়িয়ে গোসল ছাড়াই লাশ দাফন করা হতো।”

এরপর থেকে রজব আলীর নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক আহসান কবির, মৌলভী ইউনুছ আলী, আরব আলী মিলে সাধারণ মৃতের লাশের পাশাপাশি করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারীদের গোসলের ব্যবস্থা করেছেন। তাদের সাথে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয় জাকির মিয়া ও হাফিজ সিরাজ মিয়াকে। মহিলাদের গোসল করাতে নিয়োজিত রয়েছেন ফাতেমা বেগম ও জায়েদা বেগমও। তারা সাধারণ মৃতের গোসলের পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের গোসল দিয়ে যাচ্ছেন।

রজব আলী আরও জানান, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর পর অনেকেই লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে সোজা মানিক পীর (রহ:) কবরস্থানে নিয়ে আসে। স্বজনরা যখন কবরে নামতে চান না, তখন তারা পিপিই পড়ে নিজেরাই কবরে নেমে তাদের দাফন করেন। 

মৌলভী আরব আলী বলেন, “২৩ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত রয়েছি। প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ জন মৃতকে দাফন করা হচ্ছে। এর আগে কখনও দাফনের এমন চাপ ছিলো।”

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের ফলে গত কয়েক মাস ধরে মৃতদেহ দাফন ও সৎকারের চাপ বেড়েছে মানিক পীর (রহ:) কবরস্থান ও চালিবন্দর শ্মশানঘাটে।

তিনি বলেন, “স্বাভাবিক মৃত্যুর পাশাপাশি মহামারিতে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। এর জন্য কর্মব্যস্ততা বেড়েছে কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে নিয়োজিতদের। পরিস্থিতি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। করোনাভাইরাস থেকে বাচঁতে বেশি করে সচেতন হতে হবে। টিকা গ্রহণ করতে হবে।”

এদিকে করোনাভাইরাসে সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৭০২ জন। শনাক্তের হার ৩২.৮২%।

About

Popular Links