Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চিকিৎসকের টেবিলে কুকুর, নৈশ প্রহরী ও ফার্মাসিস্টকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ০৭:০৮ পিএম

অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিলেন সুমন শেখ (৩৫) নামে এক যুবক। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখেন চিকিৎসক, নার্স বা কর্তব্যরত কোনো ব্যক্তি রুমে নেই। চিকিৎসকের টেবিলের ওপর শুয়ে আছে কুকুর। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন সুমন শেখ। পরবর্তীতকালে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডি থেকে পোস্ট করেন তিনি। মূহুর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় ছবিটি। 

রবিবার (৮ আগস্ট) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

সুমনসহ অনেকেই ওই রাতের ঘটনায় দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য জানান, হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশ প্রহরী হালিম শেখকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে নোটিশের জবাব না দেওয়া হলে দায়িত্বে অবহেলার কারণে এই ২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। 

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ওই রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিয়া সুলতানা লোপা, ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশ প্রহরী হালিম শেখ জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। 

সুমন শেখ বলেন, “রবিবার রাত ১১ টার দিকে আমার অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখি কেউ নেই। ডাক্তারের টেবিলের উপরে একটি কুকুর ঘুমিয়ে আছে। আমি তখন এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করি। এরপর অনেক ডাকাডাকি পরে ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশ প্রহরী হালিম শেখ এসে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তরকে ডেকে আনেন। এরপর ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা লোপা আমার শাশুড়ির চিকিৎসা করেন। আমি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।” 

ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস বলেন, “আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট পদে চাকরি করি। জনবল কম থাকার কারণে আমাকে জরুরি বিভাগে ডিউটি করতে হয়। ওই রাতে অল্প সময়ের জন্য আমি ও নৈশ প্রহরী হালিম শেখ জরুরি বিভাগের পাশে ১০২ নম্বর রুমে গিয়ে ছিলাম। এই সুযোগে টেবিলের উপর একটি কুকুর উঠে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি এসে কুকুরটি দেখতে পেয়ে তাড়িয়ে দেই।”

ডা. রাজিয়া সুলতানা লোপা বলেন, “জরুরি বিভাগ দেখার দায়িত্ব ফার্মাসিস্ট ও নৈশ প্রহরীর। আমরা রাতে জরুরি বিভাগের পাশে ডাক্তারদের যে রুম আসে সেখানে থাকি। রোগী আসলে ফার্মাসিস্ট ও নৈশ প্রহরীরা আমাদের ডেকে নেয়। টেবিলের উপরে কুকুর উঠে ঘুমানোর বিষয়টি আমি দেখেনি।”

About

Popular Links