Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ায় ভূমিহীনদের লাগানো ১৬৫টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের লাগানো বিভিন্ন জাতের ১৬৫টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২১, ০৯:২৮ পিএম

বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়ায় খাস জমিতে অসহায় ভূমিহীনদের লাগানো বিভিন্ন জাতের ১৬৫টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনরা প্রশাসনের কাছে নালিশ করেও প্রতিকার পাননি।

বুধবার (১১ আগস্ট) খাস জমি থেকে গাছ কেটে নেওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে যমুনা নদীতে ভিটেমাটি হারিয়ে নি:স্ব আব্দুর রশিদ, বদিউজ্জামান, তোতা মণ্ডল, আয়নাল হক, আশরাফ আলী, ফরিদুল ইসলাম, মিস্টার হোসেন, জয়নাল আবেদীন, হাজেরা খাতুন, অবিরন নেছা প্রমুখ গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের মানাস নদীর তীরে চুনিয়াপাড়ায় খাস জমিতে বসতি স্থাপন করেন। তারা সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগান। গাছগুলো বড় হয়ে মূল্যবান হয়ে উঠে। সম্প্রতি ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ওই ১০৩ শতক খাস জমিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৪৩টি ঘর নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করেন। সেখানে পতাকা টানিয়ে দেন। এছাড়া ওই জমিতে থাকা গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো কাটার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন, গোশাইবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও তাদের সহযোগীরা গত ৫/৬ ধরে ১৬৫টি গাছ কেটে সাদ্দাম হোসেন নামে এক ছ’মিলের মালিকের কাছে বিক্রি করে দেন। গাছগুলো মূল্য পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হবে।

তবে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা গাছগুলো কেটে বিক্রির সাথে জড়িত থাকার কথা দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, প্রতিপক্ষরা তাদের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফ আলী অভিযোগ করেন, তার ২০টি গাছ ও দুটি বাঁশ ঝাঁর আওয়ামী লীগের নেতারা কেটে নিয়েছেন। এতে তার অন্তত দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ গাছগুলো বিক্রি করে মেয়ে জান্নাতির যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল। আয়নাল হকের ১৬টি গাছ, তোতা মণ্ডলের ২৫টি, বদিউজ্জামানের ২৬টি, আব্দুর রশিদের ২২টি গাছ রয়েছে। সবমিলিয়ে অন্তত ২০০ গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, খাস জমিতে কেউ গাছ লাগালেও এর মালিক সরকার। তারপরও গাছগুলো কেটে বিক্রি করায় থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ৯ আগস্ট রাত পর্যন্ত ১৬৫টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জড়িত প্রভাবশালীদের সকলে চেনেন। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About

Popular Links