Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাবাজার ঘাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

পদ্মা সেতুর পিলারে পরপর চারবার ফেরির ধাক্কার ঘটনায় বাংলাবাজার ঘাট স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২১, ০৬:৩৯ পিএম

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাবাজার ঘাট স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ঘাট স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফেরির ধাক্কা এড়াতে বাংলাবাজার ঘাট স্থানান্তর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সভা ডাকা হয়েছে। সভা চলমান রয়েছে। সভা শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

বাংলাবাজার ঘাটটি শরীয়তপুরের জাজিরায় মাঝিরকান্দি ঘাটে নেওয়া হবে বলে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাওড়াকান্দি ঘাট সরিয়ে কাঁঠালবাড়িতে আনা হয়। এর তিন বছর পর ২০২০ সালের নভেম্বরে নাব্যতা সংকট ও পদ্মা সেতুর নদী শাসনের জন্য কাঁঠালবাড়ি ঘাটটি সরিয়ে বাংলাবাজার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে আজ সকাল পৌনে ৭টার দিকে বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর পিলারের সাথে ধাক্কা খায় “কাকলী” নামে একটি ফেরি।

এ বিষয়ে ফেরিটির চালক জানান, ফেরিটি পদ্মা সেতুর ১১-১২ পিলারের মধ্য দিয়ে আসার কথা। কিন্তু নদীর প্রচণ্ড স্রোত ও বাতাসের কারনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ১০ নম্বর পিলারে গিয়ে ধাক্কা লাগে। এতে ফেরিটির র‌্যাম্পের সামান্য ক্ষতি হয়। এছাড়া আর কিছু হয়নি।

তার দাবি, এ ঘটনায় পদ্মা সেতুর পিলারেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। ধাক্কা লাগার পর ফেরিটি চালিয়ে নিরাপদে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছানো গেছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এরপর সকাল ১০টার দিকে পদ্মা সেতু এলাকা ও মাদারীপুরে মাঝিকান্দির ঘাট পরিদর্শনে যান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুতে বার বার আঘাতের ঘটনায় আমরা খুবই বিব্রত বোধ করছি। মানুষের হৃদয়েও ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও এ ধরনের ধাক্কায় সেতুর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তারপরও যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য আজ উচ্চ পর্যায়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এ ব্যাপারে করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শিমুলিয়া নদী বন্দরের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক এবং সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহাদাত হোসেন জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। শিমুলিয়া ঘাটে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ এসেছেন। তিনি শিমুলিয়া ঘাট পরিদর্শন করছেন। এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা জানিয়ে পদ্মা মূল সেতুর প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল কাদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সাধারণ ডায়রিতে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরণের ঘটনা বারংবার ঘটায় সেতুর নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া ফেরিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারতো। এ বিষয়ে ফেরির ফিটনেস, চালকদের যথাযথ যোগ্যতা, শারীরিকভাবে অসুস্থতা, অদক্ষতা বা কোনো অবহেলা ছিলো কিনা এ ব্যাপারে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী আয়োজিত এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সম্ভাব্য বিদেশি অপশক্তির গোয়েন্দা তৎপরতা রোধে এবং সেতুর পিলারের সাথে ফেরির ধাক্কা প্রতিরোধে প্রতিটি ফেরিতে দুইজন করে সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে চলাচলকারী তিনটি ফেরির ধাক্কায় পদ্মাসেতুর ১০, ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারের পাইল ক্যাপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বারবার পিলারে ধাক্কার ঘটনা উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এবার নিরাপত্তার জন্য সেতুর পিলারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। সাথে পিলার ও ফেরিগুলোর চারপাশে রাবারের টায়ার লাগানো হবে। এ নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোতে দুই জন সেনা সদস্য থাকবে।

এর আগেও তিন বার বাংলাবাজার ঘাট থেকে আসার পথে পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত করে ফেরি। গত ২০ ও ২৩ জুলাই ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারে এবং ৯ আগস্ট ১০ নম্বর পিলারে আঘাত করে। এসব ঘটনায় থানায় জিডি, তদন্ত কমিটি গঠন ও ফেরিচালকদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

About

Popular Links