Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বঙ্গবন্ধুর ‘ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন’ থেকে চিরবঞ্চিত হয় ঢাবি

১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ঢাবি কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ১১:১৩ এএম

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ঢাবিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন শেষ হয়ে যায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তৎকালীন উপাচার্য পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্বল্প বেতনভোগী কর্মীদের সমর্থন জানানোর কারণে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঢাবির ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো আচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য বঙ্গবন্ধুও প্রস্তুত ছিলেন।

শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালের ২৬ মার্চ ঢাবির নির্বাহী পরিষদ তাকেসহ আরও চারজন ছাত্রকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শুরু করা আন্দোলনে “উসকানি” দেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার করে।

এরপরও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের দাবি আদায়ের বিষয়টি উপলদ্ধি করতে পেরে তাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬১ বছর পর ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট তার এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাবি কর্তৃপক্ষ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

সেসময় “Dacca University: A special supplement on the occasion of the August visit of the president and the chancellor” শীর্ষক একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামেরও সেদিন ঢাবিতে যাওয়ার কথা ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফরকে সামনে রেখে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছিল বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যুবনেতা শেখ কামাল জাতির জনককে স্বাগত জানাতে ক্যাম্পাস সাজানোর বিষয়টি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর হাস্যোজ্জ্বল মুখের ১২ ফুটের একটি ভাস্কর্য, ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের দুটি তোরণ এবং চারুকলা ভবনের পাশে জাতীয় এই নেতার দুটি ম্যুরাল তৈরি করা হয়েছিল।

শেখ সাদী তার ‘‘বঙ্গবন্ধু অভিধান’’ বইয়ে লিখেছেন, “পরিকল্পনা ছিল যে বঙ্গবন্ধু প্রথমে জগন্নাথ হল পরিদর্শন করবেন এবং তারপর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে যাবেন। এরপর টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।”

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়, “বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ পরিদর্শন করার কথা ছিল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় শহিদদের একটি কবরস্থানে তাঁর পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা ছিল।”

টিএসসির কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের যাদুঘর পরিদর্শন করারও কথা ছিল বঙ্গবন্ধুর। কারণ শেখ কামাল সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন।

এদিকে ঘটনার ঠিক একদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। প্রথমটি গ্রন্থাগার চত্বরে এবং অন্যটি বিজ্ঞান অনুষদের কাছে।

শেখ সাদী তার বইটিতে বলেছেন, “সেগুলো ছিল নিখিল বোমা, যা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) গণবাহিনী তৈরি ও বিস্ফোরিত করেছিল।”

সেই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রেস নোটে বলা হয়েছিল, “বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিস্ফোরিত বোমাগুলি খুব শক্তিশালী ছিল এবং বিশেষজ্ঞ ছাড়া এই ধরনের বোমা তৈরি করা অসম্ভব। এই ধরনের বোমা শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে দেখা যায়। পুলিশের সন্দেহ, এটি জেএসডি, গণবাহিনী বা চীনপন্থী বামগোষ্ঠীর কাজ। ”

বিস্ফোরণের খবর জানার পর আওয়ামী যুবলীগের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই মহাননেতাকে হত্যার কয়েকঘণ্টা আগে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় শেখ ফজলুল হক মণি, আব্দুর রাজ্জাক এবং কাজী ফিরোজ রশিদসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে দেখা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মণি এবং অন্যান্য যুবলীগ কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।

সেদিন আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল, নোয়াখালীতে একটি ভারতীয় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল।

মহিউদ্দিন আহমদ তার বই “বেলা অবেলা: বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫” বঙ্গবন্ধুর সহকারী প্রেস সেক্রেটারি মাহবুব তালুকদারের উদ্ধৃতি হিসেবে বলেছেন, “আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষণের একটি খসড়া তৈরিতে ব্যস্ত ছিলাম, যা তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামে উপস্থাপন করবেন। একপর্যায়ে আমরা একটি ভারতীয় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাই। প্রেস সচিব তোয়াব খান ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।”

About

Popular Links