Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে শেষ হয় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের স্বপ্ন

সংবিধানের খসড়া তৈরির আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু বলেন, 'আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি তবে, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মের অবিশ্বাসী নয়'

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ০১:০৫ পিএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে কোনো ধর্মীয় নীতি আরোপ করেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদের স্বল্পকালীন শাসনামল শেষে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” যুক্ত করেন।

পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং মুসলমানদের জুমার নামাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন। তার আগে, পাকিস্তান শাসনামলে রবিবার ছিল সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি এবং বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেও এটি অব্যাহত ছিল।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ। সে কারণেই ১৯৪৯ সালে গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের মূল নাম থেকে ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেন তিনি। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া তৈরির সময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদে তার ধর্মনিরপেক্ষ মতামত ব্যক্ত করেন।

১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, জাতীয় সংসদে সংবিধানের খসড়া তৈরির আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি তবে, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মের অবিশ্বাসী নয়। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং কেউ অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মে হস্তক্ষেপ চায় না।”

বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। বাংলাদেশে ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমি বিশ্বাস করি যে, কেউ যদি এমনটা করে তাহলে বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিধোধ নেবে।”

শেখ হাসিনা এবং বেবী মওদুদ সম্পাদিত “শেখ মুজিব ইন বাংলাদেশ অ্যাসেম্বলি” (১৯৭২-১৯৭৫) গ্রন্থ অনুসারে, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আবারও দৃঢ়ভাবে সংসদে দাঁড়িয়ে ধর্মের বিষয়ে তার অবস্থানের কথা বলেন।

জাতির পিতা বলেন, “মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের থামানোর অধিকার কারও নেই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের থামানোর ক্ষমতা কারও নেই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না। খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের আটকাতে পারবে না। আমাদের একটাই উদ্বেগ, ধর্মকে কখনোই রাজনৈতিক হাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।”

বঙ্গবন্ধু বলেন, “২৫ বছর ধরে আমরা ধর্মের নামে প্রতারণা দেখেছি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে অসততা, ধর্মের নামে নিপীড়ন, ধর্মের নামে হত্যা এবং ধর্মের নামে ব্যভিচার। এসবই ঘটেছে বাংলাদেশের মাটিতে। ধর্ম খুবই পবিত্র। এটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।”

১৯৭২ এর সংবিধানে ধর্মীয় অন্তর্ভুক্তির অধিকার সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেন, “যদি কেউ বলে যে ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, আমি বলব ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। আমরা সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করেছি।”

যদিও খোন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন একজন চরম ইসলামপন্থী, যে কারণে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে ধর্মকে আবার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এমনকি মোস্তাক, জিয়া, এরশাদ এবং পরবর্তী সময়েও।

About

Popular Links