Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘বাকশাল’ বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব

বঙ্গবন্ধু নিজেই বাকশালকে "দ্বিতীয় বিপ্লব" বলেছিলেন যা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী এবং শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করবে

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ১২:১৮ পিএম

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদ হওয়ার আগে ওই দিনেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেষবারের মতো বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগের (বাকশাল) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

শেখ সাদী রচিত `বঙ্গবন্ধু অভিধান’ গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্যানুসারে, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বহুল আলোচিত বাকশালের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান এবং বাকশালের কেন্দ্রীয় নেতারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাকশাল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মুজাফফর) এবং জাতীয় লীগ নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করেন।

বাকশাল গঠন এবং রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু নিজেই বাকশালকে "দ্বিতীয় বিপ্লব" বলেছিলেন যা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী এবং শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করবে।

রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাকশালের চেয়ারম্যান হন। এছাড়া ১৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটি, ১২০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি জাতীয় কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় মহিলা লীগ, জাতীয় যুবলীগ এবং জাতীয় ছাত্রলীগ নামে পাঁচটি সহযোগী সংগঠন গঠন করা হয়।

নির্বাহী কমিটি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্য মন্ত্রী পদমর্যাদার ছিলেন।

দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পুনর্নির্মাণ এবং এটিকে জনবান্ধব করার জন্য বাকশাল গঠন করা হয়েছিল।

এসময়ে চারটি সংবাদপত্র রেখে আর সমস্ত সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়াতে বাকশাল গঠনকে একটি স্বৈরাচারী ধারণা বলে মনে করেন কিছু সমালোচক।

কেন বাকশাল গঠন করেছেন বঙ্গবন্ধু তা নিজেই বর্ণনা করেন বাকশালের প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির সভায়।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বলেন, “যদি পুরাতন মতাদর্শ এবং পথ মুক্তি দিতে না পারে, তবে মানুষের অধিকার আছে সেগুলো পরিবর্তন করার। নতুন একটি বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা জাতির নতুন একটি ধারণা তৈরি করতে চাই। আজ আমরা যে কাঠামো দেখছি তা ব্রিটিশ উপনিবেশ দ্বারা আরোপিত। এটা আমাদের দেশে কল্যাণ আনতে পারে না।”

বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন: “আমাদের বিপ্লব হল ব্রিটিশদের চালু করা প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন। দল গঠনের পিছনে এটিই একমাত্র কারণ নয়। আমি এই পুরানো, পচা শাসন ব্যবস্থা বাতিল করতে চাই।”

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৬০ টি জেলায় বাকশাল গঠন করতে চেয়েছিলেন যেখানে প্রতিটি জেলা একজন প্রশাসকের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।

বাকশাল ছিল একটি সমন্বিত এবং বিস্তৃত কার্যক্রম।

বাকশাল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য বাকশাল গঠন করেছিলেন, কিন্তু এই ধারণার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণসহ মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনতে একটি চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটা নষ্ট করা হয়েছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

“এটি ছিল মাত্র পাঁচ বছরের কর্মসূচি, যার পেছনে বঙ্গবন্ধুর একমাত্র লক্ষ্য ছিল মানুষের মুখে হাসি ফোটানো”, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, যদি তিনি পরবর্তী পাঁচ বছর এটি করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো। দুর্ভাগ্যবশত, তাকে তা করতে দেওয়া হয়নি।"

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাকশাল বিলুপ্ত হয়।

তারপর থেকে আওয়ামী লীগ সহ বাকশালের সাথে একীভূত হওয়া রাজনৈতিক দলগুলো আবারও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠে।

About

Popular Links