Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১০ বছরে দুই শতাধিক তরুণীকে পাচার করেছে কালা-নাগিন চক্র

জনপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকায় প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে পার্শ্ববর্তী দেশের দালালের কাছে বিক্রি করা হতো

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ০৬:৫৯ পিএম

ভারতে নারী পাচারকারী চক্রের মূলহোতা কাল্লু ও নাগিন সোহাগসহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। “মামা-ভাগ্নে” ওরফে “কালা-নাগিন” নামে পরিচিত চক্রটি ৮-১০ বছরে দুই শতাধিক তরুণীকে একেক তরুণীকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিক্রি করেছে। প্রত্যেক ভুক্তভোগীর বিনিময়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পেয়েছে তারা।

সোমবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

আটকরা হলেন- মো. কালু ওরফে কাল্লু (৪০), মো. সোহাগ ওরফে নাগিন সোহাগ (৩২) ও মো. বিল্লাল হোসেন (৪১)। রবিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর পল্লবী এবং মাদারীপুরের শিবচর এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‍্যাব-৪।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “সম্প্রতি এক মা ভারতে গিয়ে নিষিদ্ধপল্লী থেকে পাচার হওয়া মেয়েকে উদ্ধার করেন। দেশে ফেরার পথে সীমান্তে বিএসএফ তাদের আটক করে। সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কার্যকর উদ্যোগ নেয় র‍্যাব। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কাল্লু-সোহাগ চক্রের হোতাসহ তিনজনকে আটক করে র‍্যাব-৪।”

খন্দকার আল মঈন বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে নারী ও তরুণীদেরকে পাচার করত। এক্ষেত্রে তাদের মূল টার্গেট ছিল দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণীরা। তাদের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী দেশে বিক্রি করে দিত। দেশে চক্রটির ২০-২৫ জন সদস্য রয়েছে। চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন সেইফ হাউজে রাখত। পরে সুবিধাজনক সময়ে লাইনম্যানের মাধ্যমে জলপথে নৌকাযোগে তাদের সাতক্ষীরা সীমান্ত পার করা হতো। স্থলপথে পাচারের ক্ষেত্রে অরক্ষিত অঞ্চল ব্যবহার করত চক্রটি।”

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, “গ্রেপ্তার মো. কাল্লু রাজধানীর পল্লবী এলাকার চিহ্নিত মানবপাচারকারী ও সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তিনি ৮ থেকে ১০ বছর ধরে মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত। পার্শ্ববর্তী দেশের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাতক্ষীরার বিল্লালসহ সীমান্তবর্তী আরও কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে তিনি নারী পাচার করে আসছিলেন।”

তিনি আর বলেন, “পর্যন্ত চক্রটি প্রায় দুই শতাধিক তরুণীকে পাচার করেছে। জনপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকায় প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে পার্শ্ববর্তী দেশের দালালের কাছে বিক্রি করা হতো। এছাড়া আটক নাগিন সোহাগ গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। সম্পর্কে  কাল্লু ও নাগিন সোহাগ মামা-ভাগ্নে।”

About

Popular Links