Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সম্প্রচার আইন-২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন

লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে সাত বছরের জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:১৮ পিএম

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনায় কমিশন গঠনের প্রস্তাবনা রেখে ‘সম্প্রচার আইন-২০১৮’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। 

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক ব্রিফিংয়ে বলেন, গণমাধ্যম পরিচালনার জন্য গঠিত সম্প্রচার কমিশন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স প্রদান করবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কমিশনে অভিযোগ করে ফল পাওয়া যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, আইনের ২ এর ১ ধারায় সংজ্ঞা দেওয়া আছে। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের যেকোনও প্রান্ত থেকে প্রিন্ট-অনলাইন-রেডিওসহ যেকোনও মাধ্যমের সম্প্রচারকে সংবাদ বলে গণ্য হবে। এই আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে- গণমাধ্যমগুলো পরিচালনার জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিশন গঠন করা হবে।

এই কমিশন গঠনে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। সার্চ কমিটিরি সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেবেন। কমিশনে একজন নারী কমিশনার রাখার বিষয়ে বাধ্য-বাধকতা রাখা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিযুক্ত হতে সংশ্লিষ্ট পেশায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে কমিশনের বৈঠক কত দিনে, কতবার করতে হবে সে বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্টভাবে কোনও নির্দেশনা নেই।

এই কমিশন গণমাধ্যম কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সম্প্রচার কাজকে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মান দণ্ডের করতে কাজ করবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সম্প্রচার যন্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হবে এই কমিশনের প্রধান কাজ। লাইসেন্স প্রদানে কমিশনের একক কর্তৃত্ব থকবে। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান বা গণমাধ্যমগুলোর লাইসেন্স করতে নির্দিষ্ট ফি লাগবে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে পর এই লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। লাইসেন্স ফি ও এর মেয়াদ বিধি দ্বারা নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রচারের কারণে কারও কোনও ক্ষতি হলে এই কমিশনে নালিশ জানানো যাবে। কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগের সুরাহা করবে।

কোনও বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী ব্যক্তি, ঋণখেলাপী, ফৌজদারি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত আসামি কমিশনের সদস্য হতে পারবেন না। আইনের ২৮ ধারায় ২৪টি অপরাধের বিবরণ দেওয়া আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- অসত্য তথ্য উপস্থাপন করলে ও সরকারের প্রজ্ঞাপন দ্বারা জারি হওয়া কোনও আদেশ অমান্য করলে, স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থী কোনও সংবাদ পরিবেশন করলে দণ্ড প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে তিন বছরের জেল, পাঁচ কোটি টাকার জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরাধ চলমান থাকলে দিনে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে সাত বছরের জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই অপরাধগুলো জামিনযোগ্য এবং বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

চলমান গণমাধ্যম বা সম্প্রচার যন্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণের বিষয়ে এই আইনে সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশনা নেই। তবে নতুন প্রতিষ্ঠান খোলা হলে অবশ্যই লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।


About

Popular Links