Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধরা পড়ছে ভয়াবহ মাদক ‘এস্কাফ’, সেবনে নষ্ট হয় প্রজননক্ষমতা

নেশাদ্রব্য হিসেবে বহুল ব্যবহারের কারণে ভারতে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন বন্ধ হয়নি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ০৪:৩০ পিএম

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সেবনে কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে পড়ে। আরেকটি বড় ক্ষতির দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন সেবনে পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। কাশির সিরাপের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে নতুন মোড়কে ভারত থেকে দেশে ঢুকছে অপেক্ষাকৃত নতুন মাদক “এস্কাফ”। ফেনসিডিলের কারবারীরাই এই মাদকের ব্যবসায় জড়িত। 

দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনসিডিল ও এস্কাফ মূলত একই জিনিস। দুটিই কোডিন ফসফেট মিশ্রিত মাদক। ভিন্ন নামের কারণে মাদকসেবীরাও এটার দিকে ঝুঁকছে। ভারতের ল্যাবোরেট ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাশির ওষুধ হিসেবে এই সিরাপ তৈরি করে। তবে নেশাদ্রব্য হিসেবে বহুল ব্যবহারের কারণে ভারতে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এর উৎপাদন বন্ধ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যেও এই মাদক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) খিলগাঁওয়ের নাগদারপাড় সেতুসংলগ্ন এলাকা থেকে সম্প্রতি ১৮৪ বোতল এস্কাফ জব্দ করেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। গত ২০ জুন আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় ৩৬ বোতল এস্কাফসহ দুই মাদক কারবারি ধরা পড়ে। এছাড়া লালমনিরহাট, দিনাজপুরেও বিভিন্ন সময় এস্কাফ ধরা পড়েছে। 

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে ৬৫ বোতল এস্কাফসহ এক মাদক কারবারি ধরা পড়ে।

এস্কাফ কারবারিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “দেড় বছর ধরে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে এস্কাফ নিয়ে আসছিলেন। এরপর কাশির সিরাপ পরিচয়ে নিজেদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান,  ২০১০ সাল থেকেই এটা আসছে। এ দেশে এস্কাফ একেবারে নতুন মাদক নয়। তবে বছর দেড়েক ধরে এই মাদকের চালান বেশি আসছে। এর প্রতি মাদক সেবনকারীদের আগ্রহ বাড়ায় দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়েই এস্কাফ বেশি আসছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “এই জেলার সীমান্ত দিয়ে এখন ফেনসিডিল আসে না বললেই চলে। এখন এর বিকল্প হিসেবে এস্কাফ আসছে। সীমান্ত এলাকায় এর দাম ফেনসিডিলের চেয়ে কম।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, “এই মাদক সেবনে গলা–বুক শুকিয়ে আসে, ঝিমুনির মতো হয়ে থাকে। এটি সেবনে কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে পড়ে। আরেকটি বড় ক্ষতির দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন সেবনে পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।”

 

About

Popular Links