Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পদ্মায় বিলীনের মুখে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি

স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বিশ্বকবির এ স্মৃতিচিহ্নের দেড় কিলোমিটার এলাকা বাদ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ০৭:১৯ পিএম

কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ি নদীতে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

কুঠিবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ফলে এলাকার বাসিন্দারা প্রমত্তা পদ্মায় জমিজমা ও বাড়িঘরসহ সব হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছে।

এর আগে, ২০১৮ সালে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর ভাঙন থেকে কুঠিবাড়িকে রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল সরকার। তবে বাঁধটি গ্রামবাসীদের তেমন কাজে আসেনি।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২০১৬-১৮ অর্থবছরে ১৬৭ কোটি টাকা খরচ করে তিন হাজার ৭২০ মিটার দীর্ঘ বন্যা সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল। এর মধ্যে কোয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর অংশে দুই হাজার ৭২০ মিটার এবং বাকি এক হাজার মিটার শিলাইদহ অংশে নির্মাণ করা হয়।

কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির নাম দিয়েছিল, “কুঠিবাড়ি সুরক্ষা বাঁধ”।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের আওতায় কুঠিবাড়ির দেড় কিলোমিটার এলাকা বাদ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রসারিত প্রকল্পটি কাগজে রয়ে গেছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কুঠিবাড়ির মূল অংশে কোনো বাঁধ নির্মাণ করাই হয়নি।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই পদ্মা নদীতে ভাঙন মারাত্মক মোড় নেয় ফলে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, কোমরকান্দি, কান্দাবাড়িয়া, জাহেদপুর, বেলগাছি গ্রামগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে। একই সঙ্গে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ছয় গ্রামের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনের পর ইউএনবি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোমরকান্দির জালাল সরদারের বাড়ি থেকে জালা প্রামাণিকের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত নদীর তীরবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গভীরে হারিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উম্মত আলী বলেন, “একসময় আমার ১৫ শতক জমি ছিল কিন্তু এখন আমার মাত্র সাত শতক জমি আছে। বাকিসব নদী গ্রাস করে ফেলেছে। যদি কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কোন পদক্ষেপ না নেয়, আমি সবকিছু হারাব।”

৬৫ বছর বয়সী আব্বাস আলী বলেন, “আমরা খুবই দরিদ্র। যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই। পদ্মা যে কোনো সময় আমার আবাসস্থল গ্রাস করতে পারে। আমাদের বাড়ি রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

কুলসুম বেগম নামে এক নারী বলেন, “পদ্মা নদীর গর্জনের কারণে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। নদীতে সবকিছু হারানোর ভয়ে দিনরাত পার করছি।”

শিলাইদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান তারেক বলেন, “প্রতি বছরই বর্ষাকালে পদ্মা নদী অনেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি গ্রাস করে এবং এ বছরও আমরা একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কৃষি জমি এবং ছয়টি গ্রাম যেকোনো সময় নদীতে তলিয়ে যাবে।”

শিলাইদহ কুঠিবাড়ির জিম্মাদার মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান বলেন, “কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রামের বাড়ি ও একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যা পদ্মা নদী থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। কিন্তু বাড়ির মূল অংশে কোনো বাঁধ নির্মিত হয়নি, ফলে বাড়িটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সরকার যদি এখনই কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম কবির বাড়ি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।”

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিতন কুমার মণ্ডল বলেন, “কুঠিবাড়ি ইতিহাসের একটি নাম এবং এটি দেশের সম্পদ। কুঠিবাড়ি বাঁচাতে যে কোনো মূল্যে বাঁধ রক্ষা করা উচিত।”

তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আফসার উদ্দিন বলেন, “ভাঙন থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

About

Popular Links