Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ার নবাববাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল লোনা পানির কুমির

পৃথিবীতে জীবন্ত সরীসৃপ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী এটি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৪ পিএম

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি বা মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম থেকে একটি লোনা পানির কুমির উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগ। 

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকার প্যালেস মিউজিয়ামের পুকুরে আটকে রাখা প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “বগুড়ায় প্যালেস মিউজিয়াম নামে পর্যটনকেন্দ্রের পুকুরে একটি কুমির আটকে রাখা হয়েছে বলে আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষকে বন্যপ্রাণী আইন সম্পর্কে জানানোর পর তারা কুমিরটি আটকে রাখার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এবং প্রাণীটিকে স্বেচ্ছায় বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

কুমিরটি সুস্থ আছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “বুধবার দুপুরে আমরা গিয়ে কুমিরটিকে উদ্ধার করে আনি। সেটিকে বর্তমানে রাজশাহী বন্যপ্রাণী পুনর্বাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এটি একটি পুরুষ কুমির, বয়স আনুমানিক ২০ বছর এবং ১২ ফুট লম্বা কুমিরটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি।”

প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষে প্রাণীটির জন্য উপযুক্ত জুটি সংগ্রহ করে বংশ বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কুমিরটি উদ্ধারে বন বিভাগকে সহায়তা করেন আলোকচিত্রী তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব ও বগুড়াভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘‘তীর’’ এর সদস্যরা।

এদিকে, বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পৃথিবীতে জীবন্ত সরীসৃপ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে লোনা পানির কুমির (Saltwater Crocodile)। সাধারণত উপকূলীয় এলাকার অল্প লবণাক্ত পানি ও নদী মোহনায় এরা বাস করে। সুন্দরবনের নদীগুলো বাংলাদেশের লোনা পানির কুমিরের একমাত্র আবাসস্থল।”

তিনি বলেন, “এরা খুবই হিংস্র প্রজাতির প্রাণী। খাবারের জন্য এরা মাছ, সাপ, বিভিন্ন প্রকার উভচর প্রাণী, বানর, কচ্ছপ এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষও শিকার করতে পারে। পুরুষ কুমির ১৬ বছরে এবং স্ত্রী কুমির ১০-১২ বছরে প্রজননক্ষম হয়। সাধারণত মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে স্ত্রী কুমির নদীর ধারে ৪০-৬০টি ডিম পাড়ে এবং ৯০ দিনে সেগুলো ফুটে বাচ্চা বের হয়।”

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) রেড লিস্ট গ্রন্থে লোনা পানির কুমির বিশ্বে ‘কম উদ্বেগের’ (least concern) এবং বাংলাদেশে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।”

About

Popular Links