Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: বিচারের আশায় বেঁচে আছেন রেজিয়ার স্বজনরা

দীর্ঘ ১৭ বছরে কার্যকর হয়নি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের বিচারের রায়

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২১, ১০:০১ পিএম

বেশ কয়েক বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিয়া বেগমের বাবা আফাজ উদ্দিন। মৃত্যু শয্যায় তার একটাই আকুতি ছিল মেয়ে রেজিয়ার হত্যাকারীদের বিচার হবে। মেয়ের মৃত্যুর পর আরও ৫ বছর বেঁচে থাকলেও পূরণ হয়নি তার শেষ ইচ্ছা। এরপর কেটে গেছে আরও এক যুগ। এই দীর্ঘ ১৭ বছরে কার্যকর হয়নি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি।

আর কত বছর অপেক্ষা করলে রায় কার্যকর হবে জানতে চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত রংপুরের কাউনিয়ার আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী রেজিয়া বেগমের স্বজনরা।

স্বজনরা জানান, সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। অন্যান্যদের মতো রেজিয়া বেগম মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে ওই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। মিছিল শুরুর  আগ মুহূর্তে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে পর পর বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। মৃত্যুর জাল ছিন্ন করে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তারপরও শেখ হাসিনার গাড়িকে লক্ষ্য করে ১২ টি গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমান, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেজিনা বেগমসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশ নেতা-কর্মী।

স্বজনরা জানান, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং ভারতীয় ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন তিনি। সেখানেই আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়েশা মোকারমের সাথে তার পরিচয় হয়। রেজিয়া বেগমও একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন সমাবেশে মিছিলে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২১ আগস্ট আয়েশা মোকাররমের নেতৃত্বে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন রেজিয়া। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হবার পূর্ব মুহূর্তে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে সভাস্থলেই নিহত হন তিনি।

পর দিন তার ছোট ছেলে নুরনবী মায়ের লাশ শনাক্ত করেন এবং আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করেন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাদের আট লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। 

স্বজনদের অভিযোগ, তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল নিহত রেজিয়ার সন্তান বা পরিবারের কাওকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে, কিন্তু দীর্ঘ আট বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

নিহতের পরিবার জানায়, তাদের একমাত্র চাওয়া রেজিয়ার হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করা।

রেজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, “প্রতি বছর ২১ আগস্টে ঘটনাগুলো টেলিভিশনে দেখি আর কাঁদি। চোখের পানি ফেলা ছাড়া আমাদের কি বা করার আছে?”

রেজিয়ার ছোট ছেলে নুরন্নবী বলেন, “আমাদের দাবি সরকারের আমলে যেন রায় কার্যকর করা হয় এবং এ ঘটনার প্রধান চক্রান্তকারী তারেক রহমানকে যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাহলেই আমার মায়ের আত্মা শান্তি পাবে।”

রেজিয়ার বড় ছেলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, “৩৯  বছর পরে হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার মায়ের হত্যার বিচারও আমরা পাবো।”

About

Popular Links